× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ০১:৩০ পিএম

গরমে স্বস্তি দেয় কাঁচা আমের জাদুকরী গুনে

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ০১:৩০ পিএম

গরমে স্বস্তি দেয় কাঁচা আমের জাদুকরী গুনে। ছবি : সংগৃহীত

গরমে স্বস্তি দেয় কাঁচা আমের জাদুকরী গুনে। ছবি : সংগৃহীত

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে শরীর যখন ওষ্ঠাগত, তখন কাঁচা আমের এক গ্লাস শরবত বা ডাল দিয়ে কাঁচা আমের টক প্রশান্তি বয়ে আনে। শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিগুণেও অনন্য এই ফলটি। গরমে সুস্থ থাকতে কেন কাঁচা আম ডায়েটে রাখবেন, জেনে নিন তার বিশেষ কিছু কারণ:

১. ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা রোধ
তীব্র গরমে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ ঘামের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। কাঁচা আম শরীরের পটাশিয়ামের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে এবং সোডিয়ামের ঘাটতি পূরণ করে। এর ফলে শরীরে পানিশূন্যতা হওয়ার ঝুঁকি কমে।

২. সানস্ট্রোক থেকে সুরক্ষা
অতিরিক্ত রোদে যারা বাইরে বের হন, তাদের সানস্ট্রোক হওয়ার ভয় থাকে। কাঁচা আমের রস বা শরবত শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে শরীরকে ভেতর থেকে শীতল রাখে, যা হিটস্ট্রোক বা সানস্ট্রোক প্রতিরোধে দারুণ কার্যকর।

৩. হজমশক্তি বৃদ্ধি ও অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণ
গরমে অনেকেরই বদহজম বা বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা দেখা দেয়। কাঁচা আমে থাকা এনজাইম এবং ফাইবার পাচনতন্ত্রকে সচল রাখে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং অম্লতা বা অ্যাসিডিটি কমাতে সাহায্য করে।

৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
কাঁচা আম ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং ভিটামিন ই-এর সমৃদ্ধ উৎস। এই ভিটামিনগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে, যা গরমের সময়ের সাধারণ জ্বর-সর্দি বা ফ্লু থেকে শরীরকে রক্ষা করে।

৫. লিভারের সুরক্ষা
কাঁচা আম খেলে পিত্তরসের ক্ষরণ বাড়ে, যা লিভার পরিষ্কার রাখতে এবং পিত্তথলির ইনফেকশন প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

৬. ঘামাচি ও চর্মরোগের সমাধান
গরমের অন্যতম অস্বস্তিকর বিষয় হলো ঘামাচি। নিয়মিত কাঁচা আম খেলে শরীরের ভেতরকার টক্সিন বের হয়ে যায়, যা ত্বককে সতেজ রাখে এবং ঘামাচির সমস্যা কমিয়ে দেয়।

কাঁচা আম খাওয়ার সঠিক ও উত্তম পদ্ধতি
১. কাঁচা আমের ফ্রেশ শরবত (আমপোড়া শরবত):
গরমে রোদে পোড়া ভাব কমাতে এবং শরীর শীতল করতে কাঁচা আমের শরবত সবচেয়ে কার্যকর। আমটি হালকা পুড়িয়ে বা সেদ্ধ করে পাল্প বের করে নিয়ে বিট লবণ, সামান্য চিনি এবং পুদিনা পাতা দিয়ে ব্লেন্ড করে খেলে তা ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে।

২. ডাল বা তরকারিতে ব্যবহার:
দুপুরের খাবারে ভাতের সঙ্গে পাতলা মুগ বা মসুর ডালের সাথে কাঁচা আমের টুকরো দিয়ে রান্না করা বাঙালি ঐতিহ্যের অংশ। এটি কেবল রুচিই বাড়ায় না, বরং উচ্চ তাপমাত্রায় হজম প্রক্রিয়া সহজ করে।

৩. সালাদ হিসেবে:
শসা, পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের সাথে কাঁচা আমের কুচি মিশিয়ে সালাদ হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। এতে ভিটামিন সি সরাসরি শরীরে পৌঁছায়, কারণ আগুনের তাপে ভিটামিন সি কিছুটা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে।

৪. আম-পুদিনার চাটনি:
তেল ছাড়া কাঁচা আম ও পুদিনা পাতার চাটনি গরমের সময় লিভারকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। এটি খাবারের রুচি ফিরিয়ে আনে।

কাঁচা আম খাওয়ার সময় কিছু জরুরি সতর্কতা:
কষ ছাড়িয়ে নিন: কাঁচা আম কাটার পর বোঁটার দিকের সাদা কষ (Sap) খুব ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। এই কষ মুখে বা গলায় লাগলে চুলকানি বা জ্বালাপোড়া হতে পারে।

অতিরিক্ত লবণ ও ঝাল বর্জন: কাসুন্দি বা মাখিয়ে খাওয়ার সময় অতিরিক্ত লবণ ও মরিচ দেবেন না। এটি উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং পেটে জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে।

খাওয়ার পর পানি পানে সতর্কতা: আম খাওয়ার ঠিক পরপরই প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়া উচিত নয়। এতে হজমে সমস্যা বা পেটে ব্যথা হতে পারে। অন্তত ১৫-২০ মিনিট পর পানি পান করা উত্তম।

খালি পেটে এড়িয়ে চলা: খুব সকালে বা একদম খালি পেটে কাঁচা আম না খাওয়াই ভালো, কারণ এতে থাকা অ্যাসিড অ্যাসিডিটির মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।

যেকোনো খাবারই অতিরিক্ত খাওয়া ভালো নয়। কাঁচা আম খাওয়ার পরপরই পানি খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত এবং অতিরিক্ত লবণের ব্যবহার এড়িয়ে চলা ভালো।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!