রাজধানীর ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ‘প্রথম আলো’ ও ‘দ্য ডেইলি স্টার’ পত্রিকার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সম্পাদক পরিষদের সভাপতি এবং ইংরেজি দৈনিক ‘নিউ এজ’-এর সম্পাদক নূরুল কবীর হেনস্তার শিকার হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানা যায়, রাত ১২টার দিকে শাহবাগ থেকে একটি মিছিল কারওয়ান বাজারের দিকে এগিয়ে আসে। মিছিলটি প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে বিক্ষোভ শুরু হয়। উত্তেজিত জনতা কার্যালয় ভাঙচুর করে এবং একপর্যায়ে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে একই গ্রুপ ফার্মগেটে অবস্থিত ডেইলি স্টার ভবনেও হামলা চালায়।
নূরুল কবীর পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য ঘটনাস্থলে গেলে ভিড়ের মধ্যে তাকে ধাক্কা দিয়ে ‘আওয়ামী লীগের দালাল’ বলে কটাক্ষ করা হয় এবং তার চুলও টানা হয়। ভিডিওতে এই হামলার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট হিসেবে জানা যায়, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এই সহিংসতা ঘটেছে।
সংবাদপত্রের সম্পাদক ও সাংবাদিকরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সাবেক সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য ফিরোজ আহমেদ বলেছেন, ‘নূরুল কবীর বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় বীরযোদ্ধা। আজ গণমাধ্যমের ওপর দাঙ্গাবাজির প্রতিবাদে একাই হাজির হয়েছিলেন।’
সাংবাদিক রাজীব আহম্মদও ফেসবুকে লিখেছেন, ‘নূরুল কবীর শুধু সাংবাদিক নন, তিনি সাহসী মানুষ। শেখ হাসিনার আমলে চরম প্রতিকূলতার মধ্যে তিনি সত্য কথা বলতেন এবং মানবাধিকার সমর্থক রিপোর্ট প্রকাশ করতেন। আজ তাকে ভাঙচুর ও গালাগালির শিকার হতে দেখা হলো।’
বিক্ষোভ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রাতভর উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পরিস্থিতি পরে সেনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্ত্বাবধানে শান্ত হয়।


