× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ১১:৪৫ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড থেকে বাংলাদেশের অব্যাহতির আহ্বান

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ১১:৪৫ এএম

অ্যালিসন হুকার ও ড. খলিলুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত

অ্যালিসন হুকার ও ড. খলিলুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট ফর পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স অ্যালিসন হুকারকে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অবহিত করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। এর পাশাপাশি বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ ছাড়াও বাংলাদেশে অবস্থানকালীন রোহিঙ্গাদের জীবিকা কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এসব কথা বলেন। খলিলুর রহমান এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।

বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নির্বাচনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এর জবাবে অ্যালিসন হুকার বলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তিনি আগামী ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে কৃষিপণ্য আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এ প্রেক্ষাপটে তিনি সাম্প্রতিক ভিসা বন্ড ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ সহজ করার অনুরোধ জানান। বিশেষ করে স্বল্পমেয়াদি বি-১ ব্যবসায়িক ভিসার ক্ষেত্রে ভিসা বন্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে আন্ডার সেক্রেটারি হুকার বলেন, বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে পর্যটকদের ভিসা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে অবস্থানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমলে ভিসা বন্ডসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ফেরত নিতে বাংলাদেশের সহযোগিতার জন্য তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ড. খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে আশ্রিত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহায়তার জন্য বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের জন্য সবচেয়ে বড় দাতা দেশ এবং এ সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

আন্ডার সেক্রেটারি হুকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে বিশাল দায়িত্ব বহন করছে, তার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এ সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দায়িত্ব ভাগাভাগি এবং টেকসই সমাধান জরুরি। পাশাপাশি রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অবস্থানকালীন জীবিকা কার্যক্রম সম্প্রসারণের অনুরোধ জানান।

বৈঠকে এনএসএ ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশি বেসরকারি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন (ডিএফসি) অর্থায়নের সুযোগ এবং বাংলাদেশে সেমিকন্ডাক্টর উন্নয়নে অর্থায়নের প্রবেশাধিকার দেওয়ার অনুরোধ করেন। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিষয়গুলো বিবেচনা করবে বলে আশ্বাস দেন অ্যালিসন হুকার।

এ ছাড়া, গাজায় মোতায়েনের জন্য প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে নীতিগতভাবে অংশগ্রহণে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান ড. খলিলুর রহমান। জবাবে আন্ডার সেক্রেটারি হুকার বলেন, এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

পৃথক বৈঠকে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, মার্কিন ভিসা বন্ড, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

এ ছাড়া, বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পররাষ্ট্র দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে শপথ পাঠ করান ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট ফর ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসোর্সেস মাইকেল জে. রিগাস।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের কর্মকর্তারা, স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, উজ্জ্বল গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে বাংলাদেশের যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র পাশে আছে। নতুন নির্বাচিত সরকার এবং আমি একসঙ্গে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে পারি, তা দেখার জন্য আমি আগ্রহী।

সব কর্মসূচিতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে এ সব তথ্য জানান।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!