জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্ল্যাটফর্ম ‘অভ্যুত্থান বাস্তবায়ন আন্দোলন (এইম)’। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আদর্শ ও চেতনাকে বাস্তব রূপ দেওয়া।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংগঠনটির উদ্দেশ্য, কর্মপরিকল্পনা এবং আংশিক আহ্বায়ক কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আয়াতুল্লাহ বেহেস্তী। সদস্য সচিব করা হয়েছে শেখ নাজমুস সাকিবকে। এ ছাড়া কমিটির অন্যান্য সদস্য হিসেবে রয়েছেন রাফিদ, শামস, স্বাধীন, শিপু, মঈন, তৌফিক শাহরিয়ার, জারিফ, সোহান, ইশতিয়াক, শিপন ও গালিব। আয়োজকেরা জানান, শিগগিরই ৩০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।
অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে আয়াতুল্লাহ বেহেস্তী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের সামনে যে সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছিল, তা যেন হারিয়ে না যায়—এই উদ্বেগ থেকেই নতুন এই প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরু। একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বিপ্লবের অর্জন যেন কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে না যায়। বৈষম্যহীন ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ গড়াই এই আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রায় দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের স্বপ্ন দিন দিন ঝাপসা হয়ে উঠছে। দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করার যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা বাস্তবায়নে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতা থেকেই ‘অভ্যুত্থান বাস্তবায়ন আন্দোলন’-এর আত্মপ্রকাশ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি কোনো এনজিও গঠনের উদ্যোগ নয় কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের কোনো প্রচেষ্টা নয়।
বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ বলেন, জুলাইয়ের আত্মত্যাগ ও রক্ত যেন বৃথা না যায়—এই শঙ্কাই তাদের নতুন করে সংগঠিত করেছে। বিপ্লব নিয়ে আবেগী বক্তব্যের সময় শেষ; এখন সময় এসেছে জবাবদিহি ও হিসাব চাওয়ার। কারণ, জুলাইয়ের ঘটনা কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা নয়, বরং ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সংঘটিত একটি ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান।


