ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

পোস্টাল ব্যালট বাতিলে নতুন নির্দেশনা ইসির

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম
পোস্টাল ব্যালট। ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষণা করেছে, ঘোষণাপত্র বা ভোটারের স্বাক্ষর ছাড়া পাঠানো পোস্টাল ব্যালট গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না। এ ছাড়া আরও সাতটি কারণে পোস্টাল ব্যালট বাতিলের নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেশের সব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে একটি নির্দেশনামূলক চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, বৈধ পোস্টাল ব্যালট পেপার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রার্থীভিত্তিক এবং গণভোটের ক্ষেত্রে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভিত্তিতে আলাদাভাবে গণনা করতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রিসাইডিং অফিসার নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে কোনো প্রার্থীর পক্ষে পোস্টাল ব্যালট গণনা করবেন না—

(ক) খামের ভেতরে ঘোষণাপত্র না থাকলে (খ) ঘোষণাপত্রে ভোটারের স্বাক্ষর না থাকলে; (গ) একাধিক প্রতীকে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া হলে (ঘ) কোনো প্রতীকেই টিক বা ক্রস চিহ্ন না থাকলে (ঙ) এমনভাবে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া হলে, যাতে যুক্তিসংগতভাবে নিশ্চিত হওয়া যায় না ভোটটি কোন প্রার্থী বা প্রতীকের পক্ষে দেওয়া হয়েছে (চ) OCV (প্রবাসী) ভোটের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক ব্যতীত অন্য প্রতীকে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া হলে (ছ) ব্যালট পেপারে টিক বা ক্রস চিহ্ন ছাড়া অন্য কোনো চিহ্ন প্রদান করা হলে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, গণনার সময় উপযুক্ত কারণে অবৈধ বা বাতিল ঘোষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট পেপারগুলো একটি নির্ধারিত খামে সংরক্ষণ করতে হবে এবং খামের ওপর ব্যালটের সংখ্যা উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি মোট অবৈধ বা বাতিল ব্যালটের সংখ্যা ফল বিবরণীর নির্ধারিত স্থানে লিপিবদ্ধ করে ফল বিবরণী প্রস্তুত করতে হবে।

কোনো আসনের পোস্টাল ব্যালট গণনা শুরু হওয়ার আগে যদি ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে না পৌঁছায়, তবে তা গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। এ ছাড়া, কোনো আদালতের আদেশে নির্বাচনি আসনের প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন হলে সেই আসনের পোস্টাল ব্যালট গণনার প্রয়োজন হবে না। এখানে ‘যথাসময়’ বলতে ভোটগ্রহণের দিনসহ তার আগের চার দিন মোট পাঁচ দিন বোঝানো হয়েছে।

নির্দেশনায় QR কোড ডুপ্লিকেট হওয়া বা খামের QR কোড স্ক্যান না হওয়ার কারণে বাতিল হওয়া ব্যালট আলাদাভাবে সংরক্ষণ ও হিসাব প্রকাশ করতে হবে বলেও উল্লেখ রয়েছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ভেতরে ভোটগ্রহণের দায়িত্বে থাকা সরকারি চাকরিজীবী, কয়েদি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং প্রবাসী মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন।