জাতিসংঘের অধীনে ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ফের পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
শুক্রবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। এতে শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সন্ধ্যার পর রাত ৮টার দিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এর আগে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে অগ্রসর হলে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পুলিশের ব্যারিকেডে বাধা পান। ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোতে গেলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।
সংঘর্ষে ইনকিলাব মঞ্চের জাবের এবং ডাকসুর সাবেক জিএসসহ অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সেনা ও র্যাব সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতাদের অভিযোগ, জুমার নামাজের পর শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও গুলি ছোড়ে। এতে সংগঠনের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হন। সংঘর্ষে ডাকসুর সাবেক জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
এদিকে শুক্রবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে ইনকিলাব মঞ্চ তাদের ফেসবুক পোস্টে জানায়, সংগঠনের নেত্রী জুমা ও শান্তাকেও পুলিশি হামলায় আহত করা হয়েছে।
পরবর্তীতে আরেকটি ফেসবুক পোস্টে সংগঠনটি নেতাকর্মীদের আপাতত কোনো ধরনের জমায়েত না করার আহ্বান জানায়। পোস্টে বলা হয়, চিকিৎসা শেষে আমরা আবার রাজপথে ফিরব। সে পর্যন্ত সবাইকে নিরাপদে থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন