ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

জাল ভোট ও সহিংসতায় জড়ালে ছাড় নয়: র‍্যাব

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
র‍্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান। ছবি- সংগৃহীত

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহিদুর রহমান বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে যারা নাশকতা বা বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করবে, ঝুঁকি তাদেরই নিতে হবে।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, নির্বাচনে কিছু ঝুঁকি থাকতেই পারে। তবে এবার ঝুঁকির মুখে পড়বে তারা, যারা নির্বাচন বানচাল করতে চায়। কেউ যদি জাল ভোট দিতে যায়, ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে বা ভোটকেন্দ্রে হামলা চালায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কোথাও বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা ঘটলে এবং ভোটগ্রহণের পরিবেশ ব্যাহত হলে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোট স্থগিত বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

আচরণবিধি লঙ্ঘন ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ কাজে মাঠে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা।

তিনি আরও বলেন, তফসিল ঘোষণার আগ থেকেই র‍্যাব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। গত দেড় থেকে দুই মাসে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

নির্বাচনি প্রস্তুতিকে তিন ধাপে ভাগ করা হয়েছে—নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচন দিবস এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়। নির্বাচন-পূর্ব সময় শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি। ভোটের দিন র‍্যাব স্ট্রাইকিং ও মোবাইল ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। ইতোমধ্যে ৬৪ জেলায় র‍্যাবের টিম মোতায়েন রয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। সে অনুযায়ী স্ট্যাটিক ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারে প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। প্রায় সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, পুলিশের প্রায় ২৫ হাজার ৭০০টি বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এছাড়া ড্রোন, ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।