সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের পর এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার আলোচনায় জয়নুল আবদিন ফারুক। দেশে গত কয়েক দশকের রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় রাজপথের লড়াই-সংগ্রাম আর আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় তুমুল পরিচিত এই নামটি।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির গুলশান অফিস ও নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বিশ্বস্ত সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি জানায়, দলের হাই কমান্ড স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিষয়ে আলোচনায় জয়নুল আবদিন ফারুককেও রেখেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘বিগত দিনে আমি অনেক নির্যাতিত-নিপীড়িত হয়েছি। দলের জন্য আপনারা দেখেছেন পুলিশ আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করেছে। জীবন ছিল প্রাণনাশের হুমকিতে। দল চাইলে আমাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মূল্যায়ন করতে পারে। তবে এ বিষয়ে দলীয় হাই কমান্ড যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটি চূড়ান্ত বলে মনে করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন, বিএনপি দেশের জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করে। এর চাক্ষুষ প্রমাণ গণতন্ত্রের মা মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া। তার ছেলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের মানুষের সঙ্গে আছেন। ইনশাআল্লাহ সবার চাওয়া বাস্তবায়ন হবে।’
বিএনপির বিভিন্ন মেয়াদের ধানের শীষ প্রতীকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জয়নুল আবদিন ফারুক। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নোয়াখালী-২ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৮৩ হাজার ৯৯২ ভোট পেয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী এনসিপির সুলতান মুহাম্মাদ জাকারিয়া পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৫৪ ভোট।
১৯৪৯ সালের ১০ ডিসেম্বর নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন জয়নুল আবদিন ফারুক। ধারাবাহিকভাবে ১৯৯১ সালে পঞ্চম, ১৯৯৬ সালে ষষ্ঠ, ১৯৯৬ সালের জুন মাসে সপ্তম, ২০০১ সালে অষ্টম এবং ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বিরোধীদলের চিফ হুইপ নিযুক্ত হন জয়নুল আবদিন ফারুক। এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল ৪৮ ঘণ্টার হরতালের ডাক দিলে প্রথম দিনেই সংসদ ভবনের সামনে পুলিশের হামলায় গুরুতর আহত হন তিনি। এরপর সরকার বিরোধী বিক্ষোভে পুলিশের করা নাশকতার অভিযোগে ২০১৩ সালের ৩ জুলাই গ্রেপ্তার হন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারের সময় ২০১৮ সালের ৬ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুকের গাড়ি বহরে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তিনি। তবে সেনবাগ উপজেলা চেয়ারম্যানসহ বেশ কয়েকজনের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
এত সবকিছুর পরেও প্রতিকূল রাজনৈতিক সময়ে বিএনপি নেতাদের মধ্যে রাজপথের লড়াই সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন তিনি। দীর্ঘদিন দল ক্ষমতার বাইরে থাকার পরও দাপটের সঙ্গেই দেশের রাজনীতিতে বিরাজমান ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ গঠনে ব্যস্ত সময় পার করছে বিএনপি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দপ্তর সামলাতে পারেন জয়নুল আবদিন ফারুক।
ওয়াইএ/খাজা




সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন