দীর্ঘ ১২ দিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের হাতে তিনি পদত্যাগপত্র তুলে দেন। এ সময় বিদায়ী উপাচার্যকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান শিক্ষামন্ত্রী।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ২৬ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের এই অধ্যাপক। দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি) এর ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
শীর্ষ পদের দৌড়ে আলোচনায় ৫ জ্যেষ্ঠ শিক্ষক। উপাচার্যের পদত্যাগের ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ এই পদটি বর্তমানে শূন্য হতে যাচ্ছে। সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী অভিভাবক হিসেবে পাঁচজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের নাম নিয়ে ক্যাম্পাসে ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা ও গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এগিয়ে থাকা ৫ শিক্ষকরা হলেন :
১. অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ : বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপউপাচার্য (শিক্ষা) এবং প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞানবিভাগের অধ্যাপক। তিনি সাদা দলের সাবেক আহ্বায়ক, শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত।
২. অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম : পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের এই অধ্যাপক বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ইউট্যাবের বর্তমান সভাপতি এবং বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক।
৩. অধ্যাপক ড. এএসএম আমানুল্লাহ : সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এই অধ্যাপক বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্বে রয়েছেন।
৪. অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান : কলা অনুষদের ডিন এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক।
৫. অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান : মার্কেটিং বিভাগের এই অধ্যাপক সাদা দলের বর্তমান আহ্বায়ক এবং ইউট্যাবের মহাসচিব। তিনি বিএনপির মিডিয়া সেল ও নির্বাহী কমিটির সঙ্গেও যুক্ত।
প্রজ্ঞাপন জারির সম্ভাবনা শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ধারাবাহিকতা রক্ষায় দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে চাইছে সরকার। তাই চলতি সপ্তাহের যেকোনো দিন নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অংশীজনরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন কে হচ্ছেন দেশের প্রাচীনতম এই বিদ্যাপীঠের পরবর্তী কান্ডারি।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন