যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের করা বাণিজ্য চুক্তির প্রতিটি ধারা দেশের স্বার্থ বিবেচনায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক (ট্যারিফ) নীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি এখনও পরিবর্তনশীল। আমরা শুনেছি, তারা সব দেশের জন্য ১৫ শতাংশ ট্যারিফ আরোপের পরিকল্পনা করছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত নথি আমাদের হাতে আসেনি।
তিনি জানান, আগে নির্দিষ্ট দেশভেদে ১৯ শতাংশ পর্যন্ত রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ ছিল। বর্তমানে যে ১৫ শতাংশ ট্যারিফের কথা বলা হচ্ছে, তা সবার জন্য অভিন্ন হতে পারে। বিষয়টিকে সংবেদনশীল উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলাকালে একটি ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’ (গোপনীয়তা চুক্তি) ছিল। পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল হওয়ায় জাতীয় স্বার্থে আগাম মন্তব্য না করাই সমীচীন। চুক্তির সব ধারা আমাদের পক্ষে বা বিপক্ষে দুটোই হতে পারে। সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যোগ করেন তিনি।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জাতীয় স্বার্থে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানান।
দেশের বাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সামগ্রিকভাবে বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমদানিকৃত যেসব পণ্য সরবরাহ করে, সেগুলোর দাম নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন।
লেবুর দাম বৃদ্ধির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ৪০-৫০ টাকার লেবু হঠাৎ ১২০ টাকায় ওঠার যৌক্তিক কারণ ছিল না। কোনো সরবরাহ সংকটও ছিল না। তিন দিনের মধ্যে দাম আবার ৪০ টাকায় নেমে এসেছে। এতে বোঝা যায়, কিছু মানুষ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
বাজারে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শুধু আশ্বাস নয়, কাজের মাধ্যমেই চাঁদাবাজি বন্ধ করা হবে।
সম্প্রতি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর পণ্য কিনতে গিয়ে হুড়োহুড়িতে দুজন নারী পড়ে যাওয়ার ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে পণ্য বিতরণে আরও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ডিলারদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন