ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ঈদের আগে হচ্ছে না সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ২, ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

ঈদুল ফিতরের আগেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল। তবে ঈদের আগে এ নির্বাচন হচ্ছে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঈদের পর এ নির্বাচনের আয়োজনের সব পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, দলগুলোকে ১৫ মার্চের মধ্যে কতজন সংসদ সদস্য নিয়ে জোট গঠন করবে, তা লিখিতভাবে জানাতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দলগুলোর জোট নির্ধারণের পর সংরক্ষিত আসনের জন্য ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

অন্যথায় সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টন ও ভোটার তালিকা প্রণয়ন আটকে যাবে। জোটসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার পরই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে ইসি।

জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী, সংসদে অন্তর্ভুক্ত সদস্যদের মোট আসন সংখ্যার আনুপাতিক হারে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও জোটের অনুকূলে সংরক্ষিত মহিলা আসন বণ্টন করা হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জোট গঠনের আইনি প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা প্রণয়নের জটিলতা নিরসনে এ নির্বাচন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে আয়োজন না করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, দলগুলো জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করবে কি না তা চূড়ান্ত হওয়ার পরেই নারী আসনের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘ঈদের আগে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন হচ্ছে না। আইন অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, মূলত দলগুলোর জোট নির্ধারণের পর সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটার তালিকা ও আসন বণ্টন চূড়ান্ত করা হবে।

বর্তমান সংসদের ২৯৯টি আসনের মধ্যে ইসি এখন পর্যন্ত ২৯৭টির গেজেট প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বিএনপি ২০৯টি (বগুড়া-৬ ছেড়ে দেওয়ায় বর্তমানে ২০৮), জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি এবং এনসিপি ৬টি আসন পেয়েছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি এবং অন্যান্য ছোট দলগুলো বাকি আসনগুলো পেয়েছে।

বিদ্যমান হিসাব অনুযায়ী, এককভাবে নির্বাচন করলে বিএনপি ৩৫টি এবং জামায়াতে ইসলামী ১১টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারে। এনসিপি ও স্বতন্ত্ররা একটি করে আসন পেতে পারে। তবে ছোট দলগুলো নিজেদের মধ্যে জোট গঠন করলে তাদের অনুকূলেও আসন যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে জোটের সমীকরণে বিএনপি বা জামায়াতের আসন সংখ্যা এক বা দুটি বাড়তে পারে।

এদিকে সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনের পাশাপাশি স্থগিত ও শূন্য হওয়া দুটি আসনের উপনির্বাচনের তারিখও ঘোষণা করেছে কমিশন। প্রার্থী মারা যাওয়ায় স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ এবং প্রধানমন্ত্রীর ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৯ এপ্রিল।