বাগেরহাটে হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের মুখে একটি কুকুরের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই ভিডিও ধারণে ব্যস্ত থাকলেও অসহায় প্রাণীটিকে রক্ষায় কেউ এগিয়ে না আসায় মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু লিখেন, বাগেরহাটের ঘটনাটি আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। শুধু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবেও আমি মর্মাহত। বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দেশে মানুষ এবং সকল প্রাণের বসবাসের অভয়ারণ্য হিসাবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, এই অমানবিক ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিকে শাস্তির আওতায় আনা হোক এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এদিকে প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনার পর জেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনাটি গত বুধবার বিকেলে মাজারের দিঘির পাড়ে ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অসুস্থ ও দুর্বল একটি কুকুর দিঘির পাড়ে ঘোরাফেরা করছিল। কিছুক্ষণ পর একটি কুমির এসে সেটিকে কামড়ে পানির নিচে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় প্রাণী অধিকার কর্মীসহ অনেকেই অভিযোগ করেছেন, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের খাদ্য হিসেবে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শী ও মাজার কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, কুকুরটি অসুস্থ ছিল এবং পানিতে নামার আগে কয়েকজনকে আক্রমণ করেছিল; তাকে বেঁধে বা পরিকল্পিতভাবে কুমিরের সামনে ছেড়ে দেওয়া হয়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন