ইরান–আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব এখনো চলমান। এরই মধ্যে সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। তবুও ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় কমেনি।
তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে ধারাবাহিকভাবে তেলবাহী জাহাজ দেশে আসছে। চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ২০ দিনে ডিজেল, অকটেন, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস তেল নিয়ে এখন পর্যন্ত ১২টি জাহাজ এসেছে। এতে মজুত কিছুটা বেড়েছে।
ডিজেলের পরিস্থিতি
দেশে জ্বালানি ব্যবহারের বড় অংশই ডিজেলনির্ভর- মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশ। চলতি মাসে ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন।
গত ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সরবরাহযোগ্য মজুত ছিল ১ লাখ ২ হাজার ১৯১ টন, যা দিয়ে প্রায় ৯ দিন চলবে। তবে আরও প্রায় ১ লাখ ৬৪ হাজার টন ডিজেল খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব চালান যুক্ত হলে মজুত প্রায় দুই সপ্তাহ পর্যন্ত বাড়বে।
এ ছাড়া গত ১ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ডিজেল বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ৯০৪ টন। দৈনিক গড় বিক্রি ১১ হাজার ১৬১ টন, যা গত বছরের একই সময়ের ১১ হাজার ৮৬২ টনের তুলনায় কিছুটা কম। অর্থাৎ সরবরাহের চাপ থাকলেও চাহিদা সামান্য কমেছে।
অকটেনের অবস্থা
অকটেনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। মাসিক চাহিদা প্রায় ৪৭ হাজার টন হলেও ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মজুত দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯ হাজার টন, যা দিয়ে ২৪ দিন চলবে।
এর মধ্যে একটি নতুন জাহাজে ২৭ হাজার টন অকটেন এসে খালাস শুরু হয়েছে। ফলে মজুত সক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এ সময়ে অকটেনের দৈনিক গড় বিক্রি ১ হাজার ১১৫ টন, যা গত বছরের ১ হাজার ১৮৫ টনের তুলনায় কিছুটা কম।
পেট্রোল
পেট্রোলের মজুত রয়েছে ১৯ হাজার ১২৬ টন, যা দিয়ে প্রায় ১৪ দিন চলবে। দৈনিক গড় বিক্রি ১ হাজার ২৫৩ টন, যা গত বছরের ১ হাজার ৩৭৪ টনের তুলনায় কম। অর্থাৎ ছোট যানবাহনের জ্বালানির চাহিদাও কিছুটা কমতির দিকে।
ফার্নেস তেল
বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফার্নেস তেলের মজুত রয়েছে ৬৭ হাজার ৩৭৮ টন, যা দিয়ে প্রায় ৩০ দিন চলবে।
চলতি মাসে দৈনিক গড় বিক্রি ১ হাজার ৭২০ টন, যা গত বছরের ২ হাজার ২৬৩ টনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। গ্যাস–সংকট না বাড়লে এ খাতে চাপ তুলনামূলকভাবে কম থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
জেট ফুয়েল
জেট ফুয়েলের ক্ষেত্রে চাহিদা বেড়েছে। বর্তমানে মজুত রয়েছে ২৩ হাজার ৮৬ টন, যা দিয়ে প্রায় ১৫ দিন চলবে। দৈনিক গড় বিক্রি ১ হাজার ৭৭৫ টন, যা গত বছরের প্রায় দেড় হাজার টনের তুলনায় বেশি। অর্থাৎ বিমান চলাচল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই জ্বালানির ব্যবহারও বেড়েছে।
অন্যান্য জ্বালানি
কেরোসিন ও মেরিন ফুয়েলের মজুত যথাক্রমে প্রায় ৩৬ ও ৩২ দিনের। এই দুই জ্বালানির চাহিদা তুলনামূলক কম হওয়ায় সরবরাহে চাপও কম।
সামগ্রিক পরিস্থিতি
জাহাজে তেল আসায় দেশের মজুত দ্রুত বাড়ছে। এ সপ্তাহে আরও অন্তত ৫টি তেলবাহী জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এতে বিশেষ করে অকটেন ও ফার্নেস তেলের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি তৈরি হয়েছে। ডিজেলের বড় চালান খালাস হলে পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

