ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যে সংকেত দিল সরকার

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

দেশে চলমান জ্বালানি সংকট, ভর্তুকির বাড়তি চাপ এবং ক্রমবর্ধমান রাজস্ব ঘাটতির কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোর জন্য প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা থাকলেও এর বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে জ্বালানি তেলের ভর্তুকি এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে ব্যয় হয়ে গেছে। ফলে একসঙ্গে পূর্ণাঙ্গ পে-স্কেল বাস্তবায়ন এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।

২০২৪ সালে গঠিত বেতন কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাদের সুপারিশ জমা দিলেও সরকার পরিবর্তনের পর এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ‘নবম পে-স্কেল’ ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে।

এদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে দেশের প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মচারী আর্থিক সংকটে রয়েছেন। ২০১৫ সালের পর নতুন পে-স্কেল ঘোষণা না হওয়ায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে প্রশাসনে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের দিকনির্দেশনা নিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠকে অর্থ সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈঠকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

অন্যদিকে, নতুন পে-স্কেলের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের সংগঠনের ডাকে ছয় দিনের কর্মসূচি চলমান রয়েছে। বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।

সবকিছু বিবেচনায় সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে গড়াতে পারে। সে ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সম্ভাবনাই বেশি— প্রথমে মূল বেতন কার্যকর করা এবং পরে অন্যান্য ভাতা ও সুবিধা যুক্ত করা হতে পারে।

এখন সরকারি চাকরিজীবীদের দৃষ্টি আগামী জাতীয় বাজেটের দিকে, যেখানে এ বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা আসতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।