জাতীয় সংসদে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নবীন উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তার বক্তব্যের জবাবে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দাবি করেছেন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন নতুন প্রজন্মের দেশপ্রেমের প্রমাণ দিয়েছে। তবে ৫ আগস্টের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের তরুণ উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে গত দেড় বছরে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, যদি রাষ্ট্রপতি বা তার ভাষণকে অবৈধ বলা হয়, তাহলে সেই সময়কার সরকার নিয়েও প্রশ্ন ওঠে কি না তা ভাবার বিষয়। নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকলেই প্রকৃত রাজনীতি হয় না; দেশ পরিচালনায় সরকার ও বিরোধী উভয়েরই দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
বিরোধী দলের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজনৈতিক কাজ করতে হলে অভিজ্ঞতা, সাহস এবং প্রজ্ঞা সবই জরুরি। তিনি দাবি করেন, তাদের দল মাঠপর্যায়ে কাজ করে রাজনীতি করে, শুধুমাত্র অনলাইন নির্ভর নয়। কটাক্ষ করে তিনি বলেন, স্ট্যাটাস বা বটনির্ভর প্রচারণা দিয়ে প্রকৃত রাজনীতি হয় না।
মুক্তিযুদ্ধকে সর্বোচ্চ মূল্যবোধ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সংসদের কিছু তরুণ সদস্যের উদ্দেশে বলেন, সকলেরই লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি রাষ্ট্র গড়া যেখানে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। পারস্পরিক দোষারোপ না করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে সংসদ থেকেই ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা সম্ভব বলেও তিনি মত দেন।
এদিকে তার বক্তব্যের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি নিজেও ওই অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টা ছিলেন। তাই সংসদে যেহেতু দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেক্ষেত্রে নির্দিষ্টভাবে প্রমাণ দিতে হবে কোথায় এবং কীভাবে তিনি অনিয়ম করেছেন।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনের আগেই তিনি উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। তার দাবি, অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে এ ধরনের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।
পরিস্থিতি শান্ত করতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে কারও নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি।


