দেশের সড়ক অবকাঠামোর মেরামত ও সংস্কারে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা লাগবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিভিন্ন সড়ক প্রকল্প নিয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের জবাব দিতে গিয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
নাটোরে ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস নির্মাণের দাবি তুলে সম্পূরক প্রশ্ন করেন নাটোর-২ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
জবাবে সড়কমন্ত্রী বলেন, আমাদের জাতীয় মহাসড়ক বলেন, আঞ্চলিক মহাসড়ক বলেন এবং জেলা মহাসড়ক বলেন, তার অবস্থা জরাজীর্ণ এটা সত্য।
মন্ত্রীর দাবি, সংসদ সদস্যরা এলাকায় গেলে উন্নয়ন ও সড়ক সংস্কারের দাবির মুখে পড়েন। গত দুই মাসে তিনি যে ডিও লেটার পেয়েছেন, তাতে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে এসব রাস্তা মেরামত ও সংস্কারের জন্য। এর বিপরীতে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকার মতো এই মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এমন বাস্তবতায় ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে’ প্রকল্প বাছাই করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সব দলের সংসদ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সরকার আগামী বাজেটে প্রয়োজনীয় প্রকল্প নেবে। এ ছাড়া নিজস্ব অর্থায়ন বা বৈদেশিক সহায়তার সমন্বয়ে উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে সরকার।
এর আগে নাটোর শহরের যানজট নিরসনে এনএস সরকারি কলেজ থেকে বেলঘরিয়া বাইপাস পর্যন্ত ফ্লাইওভার এবং রেলগেটের নিচে আন্ডারপাস নির্মাণের দাবি তোলেন রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
জবাবে সড়কমন্ত্রী বলেন, নাটোর শহরের রেল ক্রসিং এলাকায় যানজট কমাতে প্রাথমিকভাবে ৬০০ মিটার দীর্ঘ একটি রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। এনএস সরকারি কলেজ থেকে বেলঘরিয়া বাইপাস পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ৬৩ কিলোমিটার ফ্লাইওভার নির্মাণের প্রস্তাবও আগে সংসদে তোলা হয়েছিল। এখন সমন্বিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হবে।
ওই সমীক্ষায় কারিগরি, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও সামাজিক দিক, ট্রাফিক প্রবাহ, জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা, ব্যয় নিরূপণ এবং বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাই করা হবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক অনুমোদনের পথে এগোবে সরকার।
কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক চার লেইনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের স্থবিরতা নিয়েও এ দিন কথা বলেন সড়কমন্ত্রী। কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর নোটিশের জবাবে তিনি বলেন, ভারতের লাইন অব ক্রেডিটের যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়েছিল।
মার্চ ২০২৫-এ অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় পর্যালোচনা সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিটের তালিকা থেকে প্রকল্পটি বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে মূল সড়ক উন্নয়ন কাজে এই মুহূর্তে কোনো বৈদেশিক অর্থায়ন নেই। এখন প্রকল্পটি সরকারি অর্থায়নে হবে নাকি অন্য কোনো উৎস থেকে অর্থ জোগাড় হবে, তা যাচাই করা হচ্ছে।
তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সরাইল পর্যন্ত মহাসড়কের প্রায় ২৮ কিলোমিটার অংশে কাজ চলমান আছে বলে তথ্য দেন সড়কমন্ত্রী। এ ছাড়া বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ‘রিজিড পেভমেন্ট ও প্রশস্তকরণ’ কাজও ধাপে ধাপে শুরু হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন