× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মেহেদী হাসান খাজা

প্রকাশিত: মে ৬, ২০২৬, ০২:০৩ এএম

ক্ষোভে ফুঁসছেন বঞ্চিত নেতারা

মেহেদী হাসান খাজা

প্রকাশিত: মে ৬, ২০২৬, ০২:০৩ এএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ইতিহাসের অন্যতম বড় ধাক্কার মধ্যে পড়তে যাচ্ছে। সংগঠনটি শিগগিরই সাংগঠনিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে পারে বলে অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দায়িত্বে থাকা একাধিক ছাত্রনেতা এবং বিভিন্ন জেলার পদবঞ্চিত, ত্যাগী এবং নির্যাতিত নেতাকর্মীরা। অবশ্য এসব বিষয় নিয়ে ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান রাজপথের নেতারা বলছেন, সাংগঠনিক বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত শহিদ জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন ছাত্রদল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগের ছাত্রদল শক্তিশালী থাকলেও বর্তমান ছাত্রদলে গ্রুপিং চরমে, যোগ্যরাও খেইহারা।

ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, গ্রুপিং, আধিপত্য বিস্তার, যোগ্যদের অবমূল্যায়ন এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার অনিশ্চয়তার কথাও উঠেছে। যার কারণে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে দলটি। এ জন্য নতুন কমিটি চাইছেন ছাত্রদলের কেন্দ্র থেকে শুরু করে সব ইউনিটের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছিরের পদত্যাগ করা উচিত। কারণ তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এসব বিষয়ে তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক নেতা ইমরান আলী ঢাকা মহানগরে দলীয় পদ না পেয়ে তিনি জানান, ছাত্রদলে ত্যাগীদের আর কোনো জায়গা নেই। ‘পথভ্রষ্ট’ ছাত্রদলে বিভিন্ন জায়গায় এমপি-মন্ত্রীদের আধিপাত্যের কারণে ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকে পদত্যাগের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। এ ছাড়া সংগঠনে অনুপ্রবেশ করছেন ছাত্রলীগ-শিবির-এনসিপির কর্মীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের আরেক কেন্দ্রীয় নেতা (সহসভাপতি) রূপালী বাংলাদেশকে জানান, অছাত্র, ইন্টারপাস, টাকার বিনিময়ে কমিটি দেওয়াসহ নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই কান্নাকাটি করেছেন কমিটিতে না আসতে পেরে অথবা বৈষ্যমের শিকার হয়ে। তিনি জানান, এর দায়ভার এড়িয়ে যেতে পারেন না রাকিব, নাসির। তিনি বলেন, বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজেদের ইচ্ছামতো কমিটি দিয়ে টাকা ইনকাম করছেন। এসব কারণে আমরা রাকিব ও নাছিরের পদত্যাগের দাবি করছি। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক দুর্বলতা, নেতৃত্বহীনতা এবং শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুধাবনে ব্যর্থতা- এসবই ছাত্রদলের বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কমিটি গঠনে আর্থিক লেনদেনসহ নানা অনিয়ম-অভিযোগ চরমে :

দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ এবং জেলা ও মহানগরে অর্ধশত কমিটি ঘোষণা করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এসব কমিটি নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অসন্তোষ চরমে। কমিটি গঠনে আর্থিক লেনদেনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন সংগঠনটির সংক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা, দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধসহ ঘটেছে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা। ক্ষোভ-হতাশা থেকে সংগঠন থেকে এরই মধ্যে অনেকের পদত্যাগের খবরও পাওয়া গেছে।

নিজেদের পছন্দের মানুষ দিয়ে কমিটি গঠন :

কমিটি গঠন নিয়ে ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মীর অভিযোগ, যথাযথ যাচাই-বাছাই না করে নিজেদের পছন্দের মানুষ দিয়ে নতুন কমিটি গঠনে শীর্ষ নেতাদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। এর ফলে ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের মূল্যায়ন হয়নি। বরং অছাত্র, ব্যবসায়ী এবং নব্যদের কমিটিতে পদায়ন করা হয়েছে। বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে যে পরিমাণ কর্মী ছিল, তার চেয়ে অন্তত ৭-৮ গুণ বেশি নেতাকর্মী পদায়িত হয়েছেন। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার বিষয়টি মানা হয়নি। শ্রম-ত্যাগের মূল্যায়ন করা হয়নি। উপরন্তু কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগ, ছাত্রশিবির ও এনসিপির নেতাকর্মীদেরও পুনর্বাসন করা হয়েছে। 

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তরের সূত্র জানায়, ২০২৪-এর ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এখন পর্যন্ত ছাত্রলীগ, ছাত্রশিবির ও এনসিপির অন্তত দুই হাজার নেতাকর্মী অনুপ্রবেশ করেছেন। সম্প্রতি ছাত্রদলের যেসব ইউনিটের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, এর মধ্যে ছাত্রলীগের অন্তত ৯৭ জন এবং এনসিপির অন্তত ২৯ জন নেতাকর্মী রয়েছেন। 

সূত্র মতে জানা গেছে, সারা দেশে গত বছর থেকে এ পর্যন্ত দুই শতাধিক ছাত্রদলের নেতাকর্মী বৈষম্যের শিকার হয়ে সংগঠন থেকে পদত্যাগ করেছেন। কমিটি গঠনে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও তুলেছেন অনেকে। তারা এ-ও বলছেন, শুধু গ্রুপিংয়ের কারণে অনেক যোগ্য ব্যক্তি বাদ পড়েছে। এতে করে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মিজানুল আলম বর্তমানে পদবঞ্চিত হয়েছেন। কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠনে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। মিজানুল আলম বলেন, ‘কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের কমিটি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে হয়েছে। এখানে আমরা বৈষম্যের শিকার হয়েছি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে যাদের ভালো সম্পর্ক, তাদের কমিটিতে রাখা হয়েছে।’ নাম প্রকাশ না করে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত এক নেতা বলেন, ‘সংগঠনের নেতাকর্মীরাই সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে বাজে স্লোগান দিচ্ছে। এটা ছাত্রদলের কোনো কর্মীর জন্যই কাম্য নয়।’ শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে প্রশ্ন তুলে বঞ্চিত ছাত্রদলের একাধিক নেতা বলেন, যারা সফলতার সুফলটা নিতে চায়, ব্যর্থতার দায়ও তাদের নিতে হবে। সেটা তো কারো ওপর চাপিয়ে দিলে হবে না।

দীর্ঘদিন একই কমিটিতে, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ :

মেয়াদোত্তীর্ণ  কমিটি, পুরোনোদেরই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দায়িত্ব দেওয়ার সংস্কৃতি, বছরের পর বছর ধরে একই কমিটি এবং আঞ্চলিকতার প্রভাবে নেতৃত্ব বিকাশে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না ছাত্রদল। অথচ একসময় সংগঠনটির ওপর ভর করেই সারা দেশে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছিল বিএনপি। সেই ছাত্রদলের শক্তি দিনের পর দিন কমে আসছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান রূপালী বাংলাদেশকে জানান, আমরা আগামীর ছাত্রদল চাই গতিশীল, পরিবর্তনশীল ও সক্রিয়।  এমন ছাত্রদল তৈরি করতে পারলে সরকারকে সহযোগিতা করতে পারবে।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক নাইম জানান, ‘এই হলো আমাদের পার্টির অবস্থা, বিএনপির গুপ্তদের প্রতিরোধে একটা প্রজেক্ট, যার নাম কাউন্টার ন্যারেটিভ সেল। কিন্তু সেখানকার অধিকাংশই গুপ্ত আর ৫ আগস্টের পরের লোকজন।’

সড়ক অবরোধ সংঘাত-সংঘর্ষ :

ছাত্রদল ঘোষিত জেলা, মহানগর কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা, অছাত্র, শিবির, এনসিপি ও বিবাহিতরা। এ নিয়ে বিভিন্ন জেলায় সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। কোথাও সড়ক অবরোধ, কোথাও ঝাড়ু মিছিল করেন বঞ্চিতরা। এতে কমপক্ষে ১০ থেকে ২০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাঙামাটিতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ :

সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গত শনিবার মধ্যরাতে একযোগে ৪৫ কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রদল। দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ এবং জেলা ও মহানগরে এসব কমিটি ঘোষণা করা হয়। ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেন বঞ্চিতরা।  এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ চার ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পদবঞ্চিতদের একটি বিরাট অংশ গত রোববার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। তাদের অভিযোগ, কমিটিতে অছাত্র, ব্যবসায়ী এবং নব্যদেরও পদায়ন করা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে পদ বিক্রি করা হয়েছে। সেখানে বিগত দিনের ত্যাগী, নির্যাতিত অনেককে বাদ দেওয়া হয়েছে।

রাঙামাটিতে পুলিশ-সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জ :

জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাঙামাটিতে নবনির্বাচিত কমিটি ও পদবঞ্চিত পক্ষের মধ্য সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।  প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, দীর্ঘ আট বছর পর রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার পরদিন সকাল থেকেই কমিটি বাতিলের দাবিতে পদবঞ্চিতরা শহরের দলীয় কার্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ করেন।  প্রায় দেড় ঘণ্টা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছাত্রদলের কমিটি বাতিল; জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও পার্বত্য মন্ত্রীর আশ্বাসে সড়ক অবরোধ তুলে নেন নেতাকর্মীরা। এদিন দুপুর থেকে আবারও পদবঞ্চিত সভাপতি প্রার্থী ফজলুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল শাকুর জাবেদের অনুসারী নেতাকর্মীরা জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন। অন্যদিকে পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে নবনির্বাচিত সভাপতি অলি আহাদ ও সাধারণ সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম রনির অনুসারীরা আনন্দ মিছিল বের করার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ-সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষে অন্তত ১০ থেকে ২০ নেতাকর্মী আহত হন। শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন ১৪৪ ধারা জারি করেন। 

নোয়াখালীতে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ, ভাঙচুর, সমাবেশ :

সদ্য ঘোষিত নোয়াখালী জেলা ও পৌর ছাত্রদলের কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও সমাবেশ করেছেন সংগঠনের বঞ্চিত নেতাকর্মীরা। এ সময় চার লেন সড়কের উভয় পাশে সড়কের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করা হয়।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ কমিটিতে ছাত্রলীগ :

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ২২ সদস্যের কমিটিতে ৮ জন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পদধারী সাবেক নেতা রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের কমিটিতে দুঃসময়ের ত্যাগী কর্মীদের পদ না দেওয়া হলেও ছাত্রলীগের নেতাদের পদ দেওয়া হয়েছে। 

কক্সবাজারে বিক্ষোভ : এ ছাড়া দীর্ঘ দুই বছর পর ঘোষিত কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটিতে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের স্থান হয়নি দাবি করে রোববার রাতে শহরের প্রধান সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। একই অভিযোগে সোমবার সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর আমতলার মোড়ে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা।

ছাত্রদলকে বাঁচাতে হলে নতুন কমিটির বিকল্প নেই :

এ ছাড়া বিভিন্ন জেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শহর, উপশহরে সড়ক, মহাসড়কে বিক্ষোভ ও অবরোধ করেছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। এদিকে একাধিক পদবঞ্চিতের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, ছাত্রদলকে বাঁচাতে হলে নতুন কমিটির বিকল্প নেই।  এ জন্য আমরা নতুন কমিটি চাই।   

এসব বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ জানান, ‘ছাত্রদল বিএনপির অঙ্গসংগঠনের একটি প্রাণ। এই সংগঠনটিতে যারা নেতৃত্বে আসে, তারা দক্ষ সংগঠক।  সবাইকে তো আর সমানভাবে কমিটিতে রাখা যায় না। হয়তো সেই জায়গা থেকে পদবঞ্চিত বা আশাবাদীরা পদে আসতে না পারায় অনেকেই আলোচনা-সমালোচনা করছে। তবে এসব সংকট আমাদের দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে আশা করি খুব কম সময়ের মধ্যে সমাধান হবে। ’ 

এই বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারি দলের হুইপ, বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের এমপি রকিবুল ইসলাম বকুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও  সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসিরকে ফোন করলে মন্তব্যের জন্য তেমন কোনো উত্তর মেলেনি।

জানতে চাইলে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি মনজুরুল আলম রিয়াদ বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জ্ঞানভিত্তিক ও বাস্তবমুখী সাংগঠনিক রাজনীতির বিকল্প নেই। একই সঙ্গে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আবহমান সামাজিক শিষ্টাচার ও মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, এই প্রেক্ষাপটে ছাত্রদলের মাধ্যমে ছাত্র ও তরুণসমাজকে সুশিক্ষিত, সচেতন এবং আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলার কার্যকর সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি সংগঠনের কাঠামোতে সৃজনশীল ও সময়োপযোগী পরিবর্তন এনে শিক্ষার্থীদের সামাজিক মূল্যবোধ ও শিষ্টাচার পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে। এ জন্য ছাত্রদলকে এমনভাবে পরিচালনা করতে হবে, যাতে এই সংগঠন থেকেই দক্ষ, নৈতিকভাবে দৃঢ় এবং একাডেমিকভাবে মেধাবী নেতৃত্ব বিকশিত হয়। জানতে চাইলে ছাত্রদলের সহসভাপতি এস এম আবু জাফর জানান, নতুন নেতৃত্ব সংগঠনকে গতিশীল ও শক্তিশালী করে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!