ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

লালদিয়া ও পানগাঁও টার্মিনাল নিয়ে রিটের পরবর্তী শুনানি ৮ জুন

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ১৭, ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল ও পানগাঁও টার্মিনাল নির্মাণ চুক্তিটি জাতীয় স্বার্থবিরোধী। এই চুক্তির ফলে শুভঙ্করের ফাঁকিতে পড়েছে বাংলাদেশ।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের অনুমোদিত এই প্রকল্প নিয়ে হাইকোর্টে দায়ের করা রিটের (নম্বর ৩০২১/২০২৬, আদালত-১১) শুনানি রোববার (১৭ মে) নির্ধারিত ছিল।  দুপুরের পরে ‘বিজ্ঞ বিচারক পরবর্তী শুনানির জন্য ৮ জুন দিন নির্ধারণ করেছেন’ বলে জানিয়েছেন আইনজীবী কামরুল হাসান।

হাইকোর্টে ১৭ মে রিটটি দায়ের করেন প্রাকটিশনার্স আইজীবী জিয়াউল হক জিয়া। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের গোপন চুক্তি প্রকাশ, চুক্তি পর্যালোচনা কমিটি গঠন ও চুক্তি স্থগিত চেয়ে রিট দায়ের করা হয়েছে।’

রোববার নির্ধারিত ছিল, দুপুরের পরে আদালত পরবর্তী দিন ধার্য করেন বলেন তিনি। জাতীয় স্বার্থবিরোধী হওয়ায় চুক্তি স্থগিতসহ ৩টি দাবিতে হাইকোর্টে রিট (পিটিশন নম্বর ৩০২১) করেন জিয়াউল হক জিয়া।

‘সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার চুক্তিতে শুভঙ্করের ফাঁকি’ শিরোনামে দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ পত্রিকায় ১১ মে বিশেষ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়াই তড়িঘড়ি করে ডেনমার্কের একটি কোম্পানির সঙ্গে ১৭ নভেম্বর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর (এমওইউ) করে অন্তর্বর্তী সরকার।

হাসিনা সরকারের নির্ধারিত ৩০০ মিলিয়ন ডলার প্রকল্পে ৫৫৬ মিলিয়ন ডলার (প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা) নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে।  অতিরিক্ত প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় বাড়িয়ে ধরা হলেও কৌশতগতভাবে গোপন রয়েছে চুক্তিটি।

অন্তর্বর্তী সরকারের চুক্তি অনুসারে, ডেনমার্কের এপি মোলার মায়ের্স্ক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস লালদিয়া টার্মিনাল ৩৩ বছর পরিচালনা করবে। নির্মাণকাল তিন এবং ৩০ বছর অপারেশন মিলে ৩৩ বছরের চুক্তিটি এখন ৪৮ বছরের জন্য ‘কনসেশন চুক্তি’ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। 

মাত্র ১৫ দিন সময়ের ব্যবধানে সঠিক আইনিকাঠামো নির্মাণ ছাড়াই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। যাকে ‘কালোচুক্তি’ নামে অভিহিত করে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে।

পিপিপি আইন ও ক্রয় নীতিমালার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শর্তসাপেক্ষ অনুমোদন কেবল একটি নীতিগত সম্মতি কিন্তু শর্ত পূরণ না হলে চুক্তি বৈধ হয় না। অন্যদিকে শর্ত পূরণ হলে প্রকল্পকে আবার পিপিপি কমিটি ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য পাঠাতে হয়। 

চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়া কোনো সরকারি সংস্থা চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে না। তবুও এমওইউ সম্পন্ন করা হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের আগে ধাপগুলো সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে।