ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

বাজেট অপরিকল্পিত ও অবাস্তবায়নযোগ্য : নাজিবুর রহমান

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে ‘অপরিকল্পিত, অস্বচ্ছ ও অবাস্তবায়নযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান। তবে বাজেটে বিরোধী দলের কয়েকটি প্রস্তাব সরকার গ্রহণ করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট পাসের পর সংসদ ভবন চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

নাজিবুর রহমান বলেন, বিরোধী দল শুরু থেকেই জনগণের স্বার্থে গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছে। তবে বাজেটে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতার ঘাটতি থাকায় তারা এর বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, বিরোধী দলের চাপের মুখে সরকার বাজেটের কয়েকটি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে। এর মধ্যে মুদি দোকানের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার, আবাসন খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিলের উদ্যোগ, করমুক্ত আয়ের সীমা চার লাখ টাকায় উন্নীত করা এবং ব্যাংক লুটেরাদের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাহারের ঘোষণা উল্লেখযোগ্য।

ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ এখন ব্যাংকিং খাত। তার দাবি, সরকার টাকা ছাপিয়ে ব্যাংকগুলোকে ঋণ সহায়তা দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংক খাত থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা কতটা বাস্তবসম্মত, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, বাজেটে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও বিদ্যমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সেই লক্ষ্য অর্জন কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

নাজিবুর রহমানের দাবি, বাজেটে ‘জুলাই চার্টার’ বাস্তবায়নের জন্য আলাদা কোনো উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখা হয়নি। নিহত ও আহতদের সহায়তার বাইরে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার প্রতিফলন বাজেটে নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংসদে পাস হওয়া ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’কে সময়োপযোগী উল্লেখ করলেও আইনের একটি বিধান নিয়ে আপত্তি জানান তিনি। তার ভাষ্য, আদালতের অনুমতি ছাড়া পুলিশকে সার্ভার বা কম্পিউটার জব্দের ক্ষমতা দেওয়ার পরিবর্তে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতির বিধান রাখা উচিত ছিল।

এছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল বিল বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে পর্যালোচনার আহ্বান জানান তিনি।

বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দকে অপ্রতুল উল্লেখ করে নাজিবুর রহমান বলেন, বিপুলসংখ্যক বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তি এবং বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নের জন্য আরও বেশি বরাদ্দ প্রয়োজন ছিল।

তিনি জানান, সংবিধান সংশোধনের পাশাপাশি কার্যপ্রণালি বিধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কারের লক্ষ্যে সরকার ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি ১০ সদস্যের সংস্কার কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করায় সংবিধান সংশোধনের বর্তমান উদ্যোগে তারা অংশ নেবেন না বলে জানান।