ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

শেষ তুলির আঁচড়ে বিদায়: শিল্প, শিশু আর স্বপ্নের মানুষ মুস্তাফা মনোয়ার

শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও শিশুতোষ সৃষ্টির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। তবে তিনি রেখে গেছেন রঙ, রেখা, কল্পনা আর একাধিক প্রজন্মের শৈশবের অমূল্য স্মৃতি। রাষ্ট্রীয় সম্মান, ফুলেল শ্রদ্ধা, স্মৃতিচারণ এবং সমবেত কণ্ঠে ‘ধন ধান্যে পুষ্প ভরা’ গানের মধ্য দিয়ে বরেণ্য এই চিত্রশিল্পী, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও পাপেট শিল্পের পথিকৃৎকে শেষ বিদায় জানিয়েছে দেশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ ও চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে তিন দফা জানাজা শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, সহকর্মী এবং সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তাকে বিদায় জানানো হয়।

সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিউমোনিয়া, প্রোস্টেট ক্যানসারসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের কৃতী সন্তান মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার ছেলে। সাহিত্য-সংস্কৃতির পরিবেশে বেড়ে ওঠা তিনি পরবর্তীতে বাংলাদেশের আধুনিক চারুকলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

চিত্রশিল্পী পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি ছিলেন শিল্পশিক্ষক, টেলিভিশন উপস্থাপক, পাপেট শিল্পের পথিকৃৎ এবং শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল বিকাশের একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের প্রতীকী লাল সূর্যের নকশা প্রণয়নে তার অবদান আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

শিশুদের জনপ্রিয় চরিত্র ‘পারুল’ সৃষ্টি এবং বিটিভির কালজয়ী অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’র মাধ্যমে অসংখ্য শিশুর প্রতিভা বিকাশে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশে পাপেট শিল্পকে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রেও তার অবদান অনন্য।

তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন এবং শিল্প-সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা বলছেন, মুস্তাফা মনোয়ারের প্রয়াণ শুধু একজন শিল্পীর মৃত্যু নয়, বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির একটি গৌরবময় অধ্যায়ের অবসান।

নিজ জেলা ঝিনাইদহের শৈলকুপাও আজ শোকাহত। তবে তার সৃষ্টি, শিল্পচর্চা ও শিশুপ্রেম তাকে বাঁচিয়ে রাখবে আগামী প্রজন্মের হৃদয়ে।