ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

২ হাজার ২৬০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা চসিকের

চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ২ হাজার ২৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ১ হাজার ৬৬৫ কোটি ৯২ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ টাকার সংশোধিত বাজেটও উপস্থাপন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে আয়োজিত বাজেট ঘোষণার অনুষ্ঠানে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এ বাজেট উপস্থাপন করেন।

বাজেট বক্তৃতায় মেয়র বলেন, পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলাই এ বাজেটের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

আগামী অর্থবছরে নগরজুড়ে ১০ লাখ গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মেয়র। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের হকার সমস্যা সমাধানে ইপিজেড, আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট ও স্টেশন রোড এলাকায় আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। এ বিষয়ে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নাগরিক সেবা সহজ করতে 'আমাদের চট্টগ্রাম' নামে একটি ওয়ান-স্টপ সিটিজেন সার্ভিস অ্যাপ চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। এ অ্যাপের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন, হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ জানানো ও সেবা গ্রহণ করা যাবে।

মেয়র জানান, বিএফআইডিসি রোডে চসিকের ৮ একর জমিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক মানের একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজস্ব আয় বাড়াতে ৪৪টি আয়বর্ধক প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে চসিকের অনুমোদিত জনবল ৪ হাজার ২২৬ জন, যা প্রায় ৭০ লাখ নগরবাসীর তুলনায় অপ্রতুল। এ কারণে নতুন জনবল কাঠামো অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ১২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স কার্যক্রম পুরোপুরি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে নাগরিকরা ঘরে বসেই অনলাইনে কর পরিশোধ করতে পারবেন এবং অনিয়মও কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন মেয়র।

তিনি জানান, চট্টগ্রামে প্রায় ১০ লাখ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে দেড় লাখেরও কম। এ সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে চসিক।

স্মার্ট সিটি গঠনের অংশ হিসেবে ১৩৫ কিলোমিটার সড়কে ৫ হাজার ৫০০টি স্মার্ট এলইডি স্ট্রিট লাইট স্থাপন, ৫৩টি মোড়ে স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু, সোলার স্ট্রিট লাইট এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও বাজেটে উল্লেখ করা হয়।

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারে ড্রেন ও খাল পরিষ্কার, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং বিজ্ঞানভিত্তিক মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। মেয়র জানান, নগরীতে প্রতিদিন উৎপাদিত প্রায় ৩ হাজার ২০০ টন বর্জ্যের ৮১ শতাংশ বর্তমানে সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে।

চসিকের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে মেয়র বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় করপোরেশনের দেনা ছিল ৫৯৬ কোটি টাকা, যা বর্তমানে কমে ৩৮০ কোটিতে নেমে এসেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন এবং অবসরপ্রাপ্তদের আনুতোষিকও নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে।

বাজেট বক্তৃতার শেষাংশে মেয়র বলেন, নাগরিকদের সহযোগিতা এবং রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে একটি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব হবে।