বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি সোমবার (২৬ মে) আন্দোলন শুরু করেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইউনূসের প্রশাসন নানা চাপের মুখে রয়েছে। সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক, রাজনৈতিক দল এবং সামরিক বাহিনীর চাপ সামলাতে হচ্ছে তাকে।
রোববার (২৬ মে) সরকার একটি অধ্যাদেশ জারি করে। সেখানে বলা হয়, কোনো ধরনের দীর্ঘ প্রক্রিয়া ছাড়াই অনিয়মের অভিযোগে সরকারি কর্মচারীদের বরখাস্ত করতে পারবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এই সিদ্ধান্ত সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে এবং তারা ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে অধ্যাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। সোমবার (২৬ মে) টানা তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলনে রয়েছেন সরকারি কর্মচারীরা।
একই দিনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষক অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেন। একইসঙ্গে বেতন বৃদ্ধির দাবিও জানান তারা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভেঙে দুটি বিভাগে বিভক্ত করার প্রস্তাব ঘিরে কর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলনে নেমেছিলেন। সরকার সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। এরপর কর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।
অন্যদিকে গত সপ্তাহে ছাত্র নেতাদের একজন বলেন, যদি রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের সংস্কার পদক্ষেপ ও নির্বাচনি সময়ের সঙ্গে একমত না হয় তাহলে পদত্যাগ করতে পারেন ড. ইউনূস। যার ফলে দেশের রাজনীতি আরও অস্থির হয়ে ওঠে।
তবে ইউনূস সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, ড. ইউনূস দায়িত্ব ছাড়ছেন না।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের দায়িত্ব শেষ না করা পর্যন্ত কোথাও যাচ্ছি না। ড. ইউনূস স্বীকার করেন যে, পরিস্থিতি জটিল, তবে তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
সরকার এখন দ্রুত নির্বাচন আয়োজন এবং কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের মধ্যে সমন্বয় আনতে হিমশিম খাচ্ছে। ড. ইউনূস জানিয়েছেন, আগামী ২০২৬ সালের জুনের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে, বিএনপি নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চায়।
দেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানও সম্প্রতি এক বক্তৃতায় ডিসেম্বরেই নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এমন পরিস্থিতিতে শনিবার ড. ইউনূস উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকেন এবং বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি ও ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) সহ দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেন।
ড. ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম রোববার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এখন যুদ্ধাবস্থায় আছি। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর আমাদের অস্থিতিশীল করার নানা প্রচেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতেই হবে।’
প্রসঙ্গত, এ মাসেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করা হয়েছে, ফলে দলটি আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ হারিয়েছে।