সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মহাসমাবেশ চলছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ছয়টি সংগঠনের মোর্চা ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ এই সমাবেশের ডাক দেয়।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে এ মহাসমাবেশ শুরু হয়। এতে সারা দেশ থেকে আসা বিপুলসংখ্যক শিক্ষক অংশ নিয়েছেন।
আন্দোলন ও মহাসমাবেশের বিষয়ে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, আজকের মধ্যে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি না পেলে আমরা সমাবেশ থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।
তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন থেকে ১১তম গ্রেডের জন্য আন্দোলন করে আসছি। সরকার থেকে বারবার আশ্বাস দিলেও দাবি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু আমাদের দাবি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। তাই আমরা মহাসমাবেশ করেছি।
জোটের নেতারা জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কনসালটেশন কমিটির রিপোর্ট সংশোধন করে সহকারী শিক্ষকদের এন্ট্রি পদে বেতন জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম ধাপে নির্ধারণ করতে হবে। একই পদে সন্তোষজনক চাকরির শর্ত পূরণ করা শিক্ষকদের ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড দিতে হবে এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ পদোন্নতি দিতে হবে। এসব দাবিতে মহাসমাবেশ।
প্রসঙ্গত, তিন দফা দাবি আদায়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রাথমিকের শিক্ষকরা আন্দোলন করে আসছেন। চলতি বছরের ৫ মে থেকে ১৫ মে পর্যন্ত সারা দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সব কর্মদিবসে এক ঘণ্টা করে কর্মবিরতি শুরু করেন তারা। এরপর ১৭ মে থেকে দুই ঘণ্টা এবং ২১ মে থেকে ২৫ মে পর্যন্ত আধাবেলা কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষকরা।
২৬ মে থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন তারা। টানা চার দিন কর্মবিরতির পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টার আশ্বাসে ১ জুন থেকে ক্লাসে ফিরে যান। আশ্বাসের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও দাবি পূরণ না হওয়ায় আবারও রাজপথে নামছেন প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা।
অন্যদিকে, বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, পদোন্নতিসহ চার দফা দাবিতে গত ১৮ জুলােই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি’। সমাবেশ থেকে দাবি আদায়ে সরকারকে আলটিমেটাম দেওয়া হয়।
তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চার দফা দাবি পূরণ না করা হলে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে সারা দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা টানা অনশন কর্মসূচি করবেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌনে ৪ লাখেরও বেশি শিক্ষক কর্মরত। তাদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকদের বর্তমান বেতন গ্রেড দশম। এ ছাড়া সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১৩তম।
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মতামত লিখুন