প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
ফায়ার সার্ভিস থেকে জানানো হয়েছে, সচিবালয়ের নতুন ১নং ২০ তলা ভবনের ৯ তলায় ভবনের বাইরের এগজস্ট ফ্যানে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুন লেগেছিল। দুপুর ২টায় আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১ম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ২টা ২ মিনিটে। পরে আরও ২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। তবে ইউনিটগুলোর কাজ করার প্রয়োজন হয়নি। ফায়ার এক্সটিংগুইশার দিয়ে ২টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।
এর আগে গত বছরের ডিসম্বর মাসে সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনের চারটি ফ্লোর আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছিলো। এসব ফ্লোরে পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের আংশিক কার্যালয় এবং একটি বিভাগের পুরো কার্যালয় ছিল। আগুনে এসব কার্যালয়ের অবকাঠামো, কাগজে সংরক্ষিত নথি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কপি পুড়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডে চার ফ্লোরের কাগজে থাকা নথিগুলো পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। যদিও বেশির ভাগ দপ্তরে এখন ই-নথি ব্যবস্থায় তথ্য সংরক্ষণ করা হয়, তবুও ই-নথি চালুর আগের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যানুয়াল নথিপত্র হারিয়ে গেছে। কত সংখ্যক নথি নষ্ট হয়েছে বা কোন কোন বিভাগের, তা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন দেশ ও সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির মূল কপি, নকশা এবং প্রকল্পসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ফাইলও আগুনে পুড়ে গেছে। অনেক নথির কোনো ই-সংস্করণ ছিল না।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেছিলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নথি অনলাইনে থাকায় সেগুলো উদ্ধার করা সম্ভব। তবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের বেশির ভাগ কাজই অ্যানালগভিত্তিক, ফলে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হতে পারে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মতামত লিখুন