× UCB Sticker Card
রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মো. আজমির হোসেন

প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ০১:০৭ এএম

ডিজিটাল রাজনীতিতে বিএনপির নতুন চ্যালেঞ্জ

মো. আজমির হোসেন

প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ০১:০৭ এএম

মো. আজমির হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

মো. আজমির হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

রাজনীতিতে শুধু ভোটের মাঠ কিংবা সাংগঠনিকভাবে জিতলেই একটা রাজনৈতিক দলের পরিপূর্ণ বিজয় সুনিশ্চিত হয় না; অনলাইনে এবং অফলাইনে মানুষের মনও জিততে হয়। আর আজকের দিনে সেই মন জয় করার সবচেয়ে বড় মঞ্চ শুধুমাত্র মিছিল, মিটিং বা জনসভা নয়; সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

অনলাইনের যুগে এখন যে রাজনৈতিক দল সহজে সাধারণ মানুষের মোবাইলের পর্দায় জায়গা করে নিতে পারে সে দলের বক্তব্যই ধীরে ধীরে জনমতের ভাষায় ন্যারেটিভ হিসেবে পরিণত হয়। রাজনীতির এই নতুন বাস্তবতায় অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বিপক্ষে বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও প্রশ্ন—তারা কি এখনো গতানুগতিক পুরোনো রাজনীতির ছকে হাঁটছে নাকি নতুন সময়ের ভাষা শিখতে প্রস্তুত দলটি?

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা এখন আর শুধু বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী কিংবা এনসিপির সাংগঠনিক মাঠের শক্তির লড়াই নয়। এটি এখন ন্যারেটিভের লড়াই, তথ্যের লড়াই, আলোচিত সমালোচিত হবার লড়াই, দ্রুত প্রতিক্রিয়ার লড়াই এবং মানুষের আস্থা-বিশ্বাস অর্জনের লড়াই। যে দল যেকোনো পক্ষের-বিপক্ষের ঘটনাকে দলের পক্ষে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করতে পারে, আলোচনার কেন্দ্র নির্ধারণ করতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান জনমানুষের কাছে সহজ ভাষায় অতিদ্রুত অনলাইনে পৌঁছে দিতে পারে; সেই দলই মূলত বাস্তবে এগিয়ে থাকে। এটাই আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির উত্তম দিক।

এই প্রেক্ষিতে জামায়াতে ইসলামী এবং তার সমমনা জোট বা অঙ্গ সংগঠন অনেক আগে থেকেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে রাজনৈতিক বিনিয়োগ হিসেবে দেখেছে। যেমন: ইসলামি ছাত্রশিবির এবং এনসিপিও তুলনামূলক নতুন দল হয়েও অনলাইন যোগাযোগকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতার বাইরে থেকেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য ও রাজনৈতিক ন্যারেটিভ ধরে রাখার চেষ্টা করছে এবং সফল হচ্ছে। আওয়ামী লীগ তাদের যেকোনো ন্যারেটিভ তাদের ফ্যান ফলোয়ার ও এক্টিভিস্টদের মাধ্যমে প্রতিদিনই অনলাইনে একটি প্রতিযোগিতা করছে।

আধুনিক রাজনৈতিক আলোচনায় যেখানে উপস্থিতি, গতি এবং বার্তার মানই সবচেয়ে বড় শক্তি। এই জায়গায় বিএনপির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা সম্ভবত রাজনৈতিক সংগঠন নয়, যোগাযোগ মাধ্যম। অনেক সময় দেখা যায় কোনো ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হওয়ার অনেক পরে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট হয়। এই গ্যাপের সুযোগে ততক্ষণে অন্য দলগুলো বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি আলোচনার দিক নির্ধারণ করে পোস্ট শেয়ার দিয়ে সোস্যাল মিডিয়া দখল করে ফেলে।

রাজনীতিতে শূন্যস্থান কখনো দীর্ঘ সময় খালি থাকে না। আপনি যদি নিজের সফলতার বিজয়ের গৌরবের গল্পগুলো না বলেন তবে অন্য কেউ আপনার দলের বিপক্ষে বিদ্রুপাত্মক কিংবা মিথ্যা ন্যারেটিভ গল্প লিখে দেবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—বিএনপি কি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের জন্য যথেষ্ট আকর্ষণীয় রাজনৈতিক পরিসর তৈরি করতে পেরেছে? চলচ্চিত্র, নাটক, সাহিত্য, সংগীত, প্রযুক্তি, বিশ্ববিদ্যালয় এবং পেশাজীবী সমাজের অনেক পরিচিত মুখ রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন৷ আবার কেউ কেউ অন্য দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বেশি দৃশ্যমান। বিএনপির ক্ষেত্রে আলোচিত কিংবা বিখ্যাত কোন ব্যক্তিত্ব বা তারকাদের প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ততার উদাহরণ তুলনামূলক অন্যান্য দলের চেয়ে অনেক কম।

বিএনপির এইভাবে নানান সেক্টরের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার পেছনে নানা সমীকরণ বা রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, আধুনিক রাজনীতিতে শুধু গুটিকয়েক রাজনৈতিক নেতার মিছিল, মিটিংয়ে বক্তব্য বা জনসভা দিয়ে নয়, আরও কতিপয় পেশাজীবি বা জাতীয়ভাবে পরিচিত বিভিন্ন সেক্টরের তারকাদের মধ্যে থেকে অধিকতর বিশ্বাসযোগ্য মুখ, চিন্তাবিদ, গবেষক, শিল্পী, উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতাদের মাধ্যমেও চাইলে বিএনপি তাদের জনমতকে আরও জোরালোভাবে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে পারে।

রাজনীতি অনেকটা বহমান নদীর মতো। যে নদী প্রবাহমান থাকে তার পানি স্বচ্ছ থাকে। আর যে নদী স্থির হয়ে যায় সেখানে পলি জমে। বিএনপির জন্যও সময় এসেছে অনলাইন যোগাযোগকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা নয়, রাজনৈতিক অবকাঠামোর অংশ হিসেবে দেখানোর। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, আইনজীবী, পেশাদার ডিজিটাল টিম, তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট, দক্ষ মুখপাত্র, তরুণদের সম্পৃক্ততা, বিখ্যাত কতিপয় চলচ্চিত্র ও নাটক ব্যক্তিত্ব, সাহিত্য কিংবা  সংগীত তারকা, প্রযুক্তিবিদ এবং পেশাজীবী সমাজের অনেক পরিচিত মুখ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে না পারলে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের তুলনায় পিছিয়ে পড়ার ব্যাপক ঝুঁকি থেকেই যাবে।

আগামী স্থানীয় এবং আসন্ন চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল শুধু ভোটকেন্দ্রে ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে না, তার অনেকটাই নির্ধারিত হবে মানুষের স্মার্টফোনের পর্দায়, ইউটিউবের আলোচনায়, ফেসবুকের কিংবা ইন্সটাগ্রামের নিউজফিডে এবং সকল ডিজিটাল জনপরিসরে। বিএনপি যদি সত্যিই আগামী দিনের রাজনীতিতে দলটির রাজনৈতিক শক্তিমত্তা ও নেতৃত্ব ধরে রাখতে চায় তাহলে তাদের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হতে হবে অনলাইনে মানুষের বিশ্বাস অর্জনের চেস্টা করা, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সদ্ব্যবহার করা এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরি করার মাধ্যমে। কারণ এখনকার রাজনীতিতে যে দল মানুষের নিকট যত সহজে, যত দ্রুত এবং বেশিমাত্রায় পৌঁছায়, সেই রাজনৈতিক দলই শেষ পর্যন্ত মানুষের মনেও জায়গা করে নেয়। বিএনপি কোন পথে হাঁটবে এখনি সময় সিদ্ধান্ত নেয়ার।

লেখক : মো. আজমির হোসেন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও শিক্ষাবিদ, ডীন—ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!