ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

‘নির্বাচনে কারচুপি রুখতে ছাত্র-জনতাকে রাজপথে সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে’

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের অন্যতম শীর্ষ নেতা আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেকোনো ধরনের কারচুপি ও তথাকথিত ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ রুখতে ছাত্র-জনতাকে রাজপথে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধু ভোট দিয়ে ঘরে ফিরে গেলে চলবে না; বরং ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র ও রাজপথের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হবে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর শিয়া মসজিদ থেকে শ্যামলী এলাকা পর্যন্ত ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত এক ‘নির্বাচনী স্বাগত মিছিল’ পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ঢাকা-১৩ আসনের জনগণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ‘রিকশা’ প্রতীকের পক্ষে ব্যালট বিপ্লব ঘটাতে প্রস্তুত। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা বসে নেই। নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে নানা ধরনের কৌশল ও কারচুপির চেষ্টা হতে পারে।

তিনি ছাত্রশিবির, ছাত্র মজলিস, ছাত্র শক্তিসহ সব ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ভোটের ফলাফল নিয়ে কোনো ধরনের জালিয়াতি বা প্রকৌশল প্রয়োগের চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করতে সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

সন্ত্রাসবাদ ও পেশিশক্তির রাজনীতির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মামুনুল হক বলেন, যারা এখনো ভয়ভীতি ও পেশিশক্তির মাধ্যমে রাজনীতি করতে চায়, তাদের ২০২৪ সালের গণআন্দোলন থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। এ দেশের মানুষ যখন নিজেদের অধিকার আদায়ে রক্ত দিতে শিখেছে, তখন সন্ত্রাসের রাজনীতিকে তারা নির্মূল করেই ছাড়বে—ইনশাআল্লাহ।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সেক্রেটারি মুহিব্বুল্লাহ বলেন, দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর পর দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে। তিনি দাবি করেন, ঢাকা-১৩ আসনের ভোটাররা ভাগ্যবান, কারণ তারা আল্লামা মামুনুল হকের মতো একজন জনপ্রিয় ও আদর্শিক নেতাকে প্রার্থী হিসেবে পেয়েছেন, যিনি তাওহিদি জনতা ও তরুণ সমাজের আইকন হিসেবে পরিচিত।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, অপর এক প্রার্থী নির্বাচনে এসে নিজের দল ও প্রতীক পর্যন্ত ভুলে গেছেন। তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের পাশে থাকবেন—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচনি স্বাগত মিছিলে মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগর থানার বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এবং সাধারণ ছাত্র-জনতা অংশগ্রহণ করেন। মিছিল ও সমাবেশে নির্বাচন ঘিরে নানা স্লোগান ও বক্তব্যে সরগরম হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।