রিফাত রশিদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অনুদানের তথ্য গোপনের অভিযোগ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন শীর্ষ নেতা (ভাপতি রিফাত রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল ইসলাম ও মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম) বিরুদ্ধে অনুদানের কোটি টাকার তথ্য গোপন করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে সংগঠনটির সভাপতি রিফাত রশিদ। এ সময় তিনি দুদকসহ যেকোনো তদন্ত সংস্থাকে কথিত অর্থ তছরুফের অভিযোগ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ১০টার সময় গণমাধ্যমকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলেন তিনি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদ্য সাবেক মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা তাদের বিরুদ্ধে গণভোটের অর্থ তছরুফের অভিযোগ তোলেন। কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই এ ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে একটি তহবিলের প্রয়োজন ছিল। এ জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। একপর্যায়ে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থায়নে সম্মত হলেও সংগঠনটি নিবন্ধিত না থাকায় সরাসরি অর্থ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ কারণে জরুরি ভিত্তিতে একটি ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়। ওই ফাউন্ডেশনে শুরুতে সিনথিয়া জাহিন আয়েশাও যুক্ত ছিলেন। তিনি প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান ও স্বাক্ষরও করেছিলেন। তবে পরে তিনি কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন না জানিয়ে সরে দাঁড়ান এবং তাকে ফাউন্ডেশনে রাখা হলে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করার কথাও বলেন। এরপর তাকে বাদ দিয়েই ফাউন্ডেশনটির নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, গণভোটের প্রচারণার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ৫ কোটি টাকার একটি চুক্তি হলেও সময়স্বল্পতার কারণে ভোটের আগে নিবন্ধিত ফাউন্ডেশনকে ৭ দিনের প্রচারণার জন্য ১ কোটি টাকা দেওয়া হয়। পরে সারাদেশে সাত দিনব্যাপী প্রচারণা চালানো হয়।
তাদের দাবি, পুরো প্রচারণার আর্থিক হিসাব বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত একটি অডিট ফার্ম দিয়ে নিরীক্ষা করা হয়েছে এবং প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের ‘হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে’ মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে বলে দাবি করে তারা এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। একই সঙ্গে দুদকসহ যেকোনো তদন্ত সংস্থা অভিযোগগুলো তদন্ত করতে চাইলে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র সংরক্ষিত আছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, সংগঠনটির ভেতরে গত কয়েক মাস ধরে একটি সাংগঠনিক সংকট চলছিল বলে বক্তব্যে বলা হয়। পূর্ববর্তী নেতৃত্ব ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণ না করায় নেতৃত্বশূন্যতা তৈরি হয় এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বিভ্রান্তিতে পড়েন। এ পরিস্থিতিতে সাবেক নেতাদের সমন্বয়ে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করে নতুন কমিটি করা হয়।
পরবর্তীতে সাধারণ সভায় গঠনতন্ত্র প্রণয়ন কমিটির দায়িত্ব সিনথিয়া জাহিন আয়েশাকে দেওয়া হলেও তিনি তা সম্পন্ন করেননি বলে অভিযোগ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান ট্রানজিশনাল সময়ে কেন্দ্রীয় কমিটির দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতিতে একটি উপদেষ্টা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। দ্রুত সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলেও জানানো হয়।

