বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কানাডা পশ্চিম শাখার সাধারণ সম্পাদক মুজিবর রহমানকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, আর্থিক অনিয়ম ও সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগে তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং সাধারণ সদস্যপদ বাতিলের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।
কানাডা পশ্চিম বিএনপির বিশেষ সাংগঠনিক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম হুমায়ুন কবির পাটওয়ারীকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কানাডা পশ্চিম বিএনপির সভাপতি খন্দকার আব্দুল আহাদ কেন্দ্রীয় মহাসচিবের কাছে পাঠানো চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মুজিবর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ কেলেঙ্কারি, পদবাণিজ্য, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠছিল।
সংগঠনের শৃঙ্খলা, ঐক্য ও সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে গত ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় সর্বসম্মতভাবে তাকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ১৮ এপ্রিল কেন্দ্রীয় মহাসচিবের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়।
তিনি জানান, চিঠির অনুলিপি দলের চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব এবং আন্তর্জাতিক সম্পাদক বরাবরও পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অভিযোগগুলোর বিষয়ে এর আগেই আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকনকে অবহিত করা হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পাঠানো চিঠিতে আট সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুজিবর রহমানের বিরুদ্ধে ছয় দফা অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন ও অশোভন আচরণ, কমিউনিটির বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে চাঁদাবাজি, পদবাণিজ্যের মাধ্যমে ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের বিভিন্ন কমিটিতে পদায়ন, তদবির বাণিজ্য, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ গ্রহণ, কানাডায় আনার নামে বড় অঙ্কের টাকা নিয়ে প্রতারণা, ঋণের অর্থ আত্মসাৎ, স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, আঞ্চলিকতা ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে দলীয় কোন্দল সৃষ্টি এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ ও জামায়াত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দলে অন্তর্ভুক্ত করে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করেন মুজিবর রহমান। একই সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া ও ওসমান হাদীর ছবি সমান্তরালভাবে ব্যবহার করে ব্যানার তৈরি এবং আলোচনা সভার আয়োজনের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের অভিযোগও আনা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে কানাডায় বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম ও সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে দলের শৃঙ্খলা, ঐক্য এবং দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে মুজিবর রহমানকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং তার সাধারণ সদস্যপদ বাতিলের জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মুজিবর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।


