× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০১:৫৪ এএম

যেসব আসন নিয়ে বিপদে বিএনপি

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০১:৫৪ এএম

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপিতে বাড়তি অস্বস্তি তৈরি করেছে ‘বিদ্রোহী’ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উপস্থিতি। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া, বহিষ্কার কিংবা জোটগত সমঝোতায় আসন ছেড়ে দেওয়ার পরও বিএনপির বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা নির্বাচনের মাঠে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন। এতে একদিকে দলীয় প্রার্থীরা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

দলীয় সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও এখনো অর্ধশতাধিক বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ২০ জনকে স্থানীয়ভাবে ‘হেভিওয়েট’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এসব প্রার্থীর কারণে অনেক আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জোট শরিকদের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কঠোরতা ও সংযম: দুই কৌশলে বিএনপি

বিএনপি সূত্র জানায়, বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে আপাতত দল কঠোরতা ও সংযম—এই দুই নীতিতেই এগোচ্ছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া নেতাদের নানা মাধ্যমে প্রার্থিতা প্রত্যাহারে রাজি করানোর চেষ্টা চলছে। এতে ব্যর্থ হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, তফসিল ঘোষিত সময়ের মধ্যেই বিদ্রোহী প্রার্থীরা তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন বলে দল আশা করছে। তা না হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিএনপির মতো বড় দলে যোগ্য প্রার্থীর অভাব নেই। আমরা আহ্বান জানিয়েছি, দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে।

দলীয় খোঁজখবরে জানা গেছে, বিএনপির পদধারী অন্তত ৩০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ২০ জন নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে পরে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে এখনো অর্ধশতাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।

যেসব আসনে জটিলতা বেশি

নাটোর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু। স্থানীয়ভাবে তাকে শক্ত অবস্থানে দেখা হচ্ছে।

মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় নেতা কামরুজ্জামান রতন। তবে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. মহিউদ্দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে রয়েছেন।

সাতক্ষীরা-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ডা. শহিদুল আলম। মানিকগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী এসএ জিন্নাহ কবীরের বিপরীতে মাঠে আছেন তোজাম্মেল হক তোজা। মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী আতাউর রহমান আতা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন না।

নোয়াখালী-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম হলেও তিনবারের সাবেক এমপি মোহাম্মদ ফজলুল আজিম, তার স্ত্রী শামীমা আজিম এবং প্রকৌশলী তানভীর উদ্দিন রাজীব। তারা তিনজনই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে রয়েছেন।

টাঙ্গাইল-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল বহিষ্কারের পরও নির্বাচনে সক্রিয় রয়েছেন। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ-২, কুমিল্লা-২সহ আরও কয়েকটি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে দলীয় প্রার্থীরা চাপে রয়েছেন।

জোটের আসনেও বিদ্রোহী ফ্যাক্টর

যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে ১৬টি আসনে সমঝোতা করেছে বিএনপি। এর মধ্যে আটটি আসনে বিএনপির পদধারী নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে থাকায় শরিক দলগুলো পড়েছে অস্বস্তিতে।

বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী হলেও সেখানে বিএনপির নেতা শাহে আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী। পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের বিপরীতে রয়েছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা হাসান মামুন।

সিলেট-৫ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। কিন্তু সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মামুনুর রশিদ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জোটের প্রার্থী মুফতি জুনায়েদ আল হাবিবের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির বহিষ্কৃত সাবেক এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

নারায়ণগঞ্জ-৪, যশোর-৫, ঢাকা-১২ ও ঝিনাইদহ-৪ আসনেও একই চিত্র। জোটের প্রার্থীদের পাশাপাশি বিএনপির বিদ্রোহীরা মাঠে থাকায় ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মিত্রদলগুলো যা বলছে

মিত্র দলগুলোর নেতারা বলছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে নির্দেশনা থাকলেও মাঠপর্যায়ে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে দ্বিধা ও বিভ্রান্তি কাটছে না। অনেক তৃণমূল নেতা-কর্মী ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও স্থানীয় জনপ্রিয়তার কারণে বিদ্রোহী প্রার্থীদের দিকেই ঝুঁকছেন।

মিত্র দলগুলোর বেশিরভাগ প্রার্থী মনে করেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে বিএনপি আরও কঠোর না হলে মাঠে পূর্ণ সমন্বয় নিশ্চিত করা কঠিন হবে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় এখন এসব আসনের দিকে বাড়তি নজর দিচ্ছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!