ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বাবার সঙ্গে সর্বশেষ যে কথা হয়েছিল রুমীর

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫, ০৬:৪৮ পিএম
এনসিপির নেত্রী জান্নাত আরা রুমী। ছবি- সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী জান্নাত আরা রুমী (৩২) তার বাবার সঙ্গে শেষ ফোনালাপে কিছু বিষয়ে টেনশনে থাকার কথা জানিয়েছেন। এ ছাড়া পাসপোর্টের কাজের জন্য বাড়ি ফেরার কথাও ছিল।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) ধানমণ্ডি থানার মাধ্যমে রুমীর মৃত্যু সংক্রান্ত খবর পান তার বাবা জাকির হোসেন। তিনি মেয়ের লাশ আনতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

আজ সকালে জিগাতলা পুরাতন কাঁচাবাজার রোড এলাকায় অবস্থিত জান্নাতী ছাত্রী হোস্টেলের পঞ্চম তলা থেকে রুমীর লাশ উদ্ধার করা হয়। হাজারীবাগ থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ এখনো তদন্ত করছে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড।

জানা গেছে, রুমীর নাম আলোচনায় আসে গত মাসে, শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের দিন দুপুরে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় এক নারীর মারধরের কারণে। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে।

এ ঘটনার পর থেকেই রুমী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অন্যান্য মাধ্যমে হুমকি ও ধমকির শিকার ছিলেন বলে দাবি করেছেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা। ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘গত এক মাস ধরে রুমী আওয়ামী লীগের ক্রমাগত সাইবার বুলিং, হত্যার ও ধর্ষণের হুমকির মধ্যে ছিলেন। প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো সাহায্য না পাওয়ায় তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।’

রুমীর বাবা জাকির হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ১৩ ডিসেম্বর মেয়ের সঙ্গে তার শেষ ফোনালাপ হয়েছিল। রুমী তখন বাবাকে বলেছিলেন, তিনি ‘টেনশনে’ আছেন। তবে বিষয়টি বিস্তারিত জানাননি। তিনি পাসপোর্ট করতে বাড়ি আসার কথাও জানিয়েছিলেন। এ ছাড়া রুমী বাবাকে একটি ব্যাংক চেক খুঁজে রাখার কথাও বলেছিলেন।

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, রুমী জাতীয় নাগরিক পার্টির ধানমণ্ডি শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী ছিলেন। তিনি দুই মাস ধরে সাইবার বুলিং ও হত্যার হুমকির শিকার ছিলেন এবং সাম্প্রতিক ঘটনার কারণে মানসিকভাবে ট্রমাটাইজড ছিলেন।

এদিকে রুমী সামাজিক মাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড আইডি থেকে সর্বশেষ পোস্টে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির জন্য প্রার্থনা প্রকাশ করেছেন। একদিন আগের পোস্টে একটি ছবি যোগ করে লিখেছেন, ‘একদিন ভোর হবে, সবাই ডাকাডাকি করবে কিন্তু আমি উঠব না.. কারণ আমি ভোরে উঠি না।’