ঢাকা শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ট্রানজিশনই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: নাহিদ ইসলাম

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: নভেম্বর ২৯, ২০২৫, ০৩:৪৮ পিএম
নাহিদ ইসলাম। ছবি- সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে পুরো বিশ্ব নজর রাখছে বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ ট্রানজিশন সম্ভব কি না। তিনি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমেই বিশ্ব বুঝবে দেশ স্থিতিশীলতার পথে যাচ্ছে, নাকি অস্থিরতা রয়ে যাবে। আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো-এই ট্রানজিশন যেন পিসফুল উপায়ে সম্পন্ন হয়।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনীতি সম্মেলন ২০২৫’-এ তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ১৬ বছরে যে ক্ষতির মুখে পড়েছি, তা রাতারাতি বদলে ফেলা সম্ভব নয়। এক বছর বা দেড় বছরে বড় ধরনের কর্মসংস্থান বা অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনা বাস্তবসম্মত নয়। আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পেছনে জনগণ এবং বিশেষত তরুণরা যে রাজপথে নেমে এসেছিল... কোন অর্থনৈতিক অনুপ্রেরণা এবং আকাঙ্ক্ষা এবং লক্ষ্যের ভিত্তিতে তারা নেমে এসেছিল, আমরা যদি এর অনুসন্ধান করতে পারি এবং সেই সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারি তাহলে পরবর্তী ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে আমাদের যে অর্থনৈতিক সংস্কার, সেটা আমরা সম্পন্ন করতে পারবো।

 

নাহিদ বলেন, তরুণরা প্রথম বিদ্রোহ করল ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। দ্বিতীয়ত ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং ’২৪-এর আন্দোলনটা প্রথমে শুরু হয়েছিল ’১৮ সালের আন্দোলনের স্পৃহায়। সেখানেও মূলত চাকরির আন্দোলন, কর্মসংস্থানের আন্দোলন এবং এবং সেই সময় কোটার একটা সুরাহা করা হয়েছিল এবং ওই বছরই আরেকটি বড় আন্দোলন হয়, যেটাকে আমরা কিশোর বিদ্রোহ হিসেবে আখ্যায়িত করি, সেটা হচ্ছে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন। 

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলন মূলত নগর পরিকল্পনার প্রশ্ন। বায়ুদূষণ, পরিবেশদূষণ, ট্রাফিক জ্যাম, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানহীনতা ও বাসাভাড়া বৃদ্ধির মধ্যে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ বেঁচে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে শহরে তরুণরা স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে পারে না, সেই শহর টেকসই নয়। তাই নিরাপদ সড়ক আন্দোলন নগর পরিকল্পনার গোড়ার প্রশ্নকে সামনে এনেছে।’