ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় মসজিদ প্রকল্পে বাংলাদেশিদের অনুদান, সংগ্রহ ১০ লাখ ডলার

শিপন আহমদ, সিডনি (অস্ট্রেলিয়া)
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে উদারতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আবারও ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশিরা। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের গ্লেনকোয়ারি মসজিদ ও যুব উন্নয়ন কেন্দ্র প্রকল্পের জন্য এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে প্রায় ১০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার সংগ্রহ হয়েছে। উদারতা ও ঐক্যের এই দৃশ্য প্রবাসী কমিউনিটিতে নতুন অনুপ্রেরণার ঢেউ সৃষ্টি করেছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সিডনির পাঞ্চবোল এলাকায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। নারী, পুরুষ ও তরুণদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে আয়োজনটি রূপ নেয় এক অসাধারণ মিলনমেলায়।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে প্রকল্পের অগ্রগতি ও পরিকল্পনা নিয়ে সারগর্ভ বক্তব্য রাখেন উদ্যোক্তারা। তারা বলেন, এটি কেবল একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নয়; এই প্রকল্পের লক্ষ্য নতুন প্রজন্মের জন্য শিক্ষা, নৈতিকতা ও নেতৃত্ব বিকাশের একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামিক কেন্দ্র গড়ে তোলা, যা প্রবাসে বেড়ে ওঠা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পথ দেখাবে।

অনুষ্ঠানের মূল পর্বে ইসলামী আলোচক ওমর আল বান্না সাদকায়ে জারিয়ার গভীর তাৎপর্য তুলে ধরেন। তার আবেগঘন বক্তব্য উপস্থিত সবার হৃদয় স্পর্শ করে এবং অনুদান ঘোষণার এক অভূতপূর্ব ধারা সৃষ্টি হয়। মুহূর্তেই মিলনায়তনের পরিবেশ বদলে যায়।

সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে যখন কয়েকজন প্রবাসী নারী বড় অঙ্কের অর্থের পাশাপাশি নিজেদের গলার স্বর্ণালংকার খুলে এই উদ্যোগে দান করেন। সেই দৃশ্যে অনুষ্ঠানস্থল জুড়ে আবেগের স্রোত নেমে আসে, অনেকের চোখে অশ্রু দেখা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই একটি অনুষ্ঠানে প্রকল্পের জন্য প্রায় ১০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার সংগ্রহ হয়েছে। প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় সাড়ে তিন মিলিয়ন ডলার হলেও এই অগ্রগতি স্বপ্নপূরণের পথে বড় একটি ধাপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আয়োজকরা জানান, প্রবাসী কমিউনিটির সম্মিলিত উদ্যোগ ও আন্তরিকতাই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। এভাবে সবাই এগিয়ে এলে অস্ট্রেলিয়ার বুকে গড়ে উঠবে একটি আধুনিক, আলোকিত ও গর্বের ইসলামিক কেন্দ্র। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির এই অনন্য দানযজ্ঞ শুধু একটি মসজিদ নির্মাণের গল্প নয়, এটি হয়ে উঠেছে ঐক্য, ভালোবাসা ও ধর্মীয় দায়বদ্ধতার এক স্মরণীয় অধ্যায়।