× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

শিপন আহমদ, (সিডনি) অস্ট্রেলিয়া

প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম

অস্ট্রেলিয়ায় স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তান হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার

শিপন আহমদ, (সিডনি) অস্ট্রেলিয়া

প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাসরত এক বাংলাদেশি পরিবারে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো প্রবাসী কমিউনিটিকে। নিউ সাউথ ওয়েলসের ক্যাম্পবেলটাউন এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে এক নারী ও তার দুই শিশুপুত্রের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন পরিবারের কর্তা মোহাম্মদ শমন আহামেদকে।

পুলিশ জানায়, সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যার পর ক্যাম্পবেলটাউনের রেমন্ড অ্যাভিনিউয়ের একটি বাড়ি থেকে জরুরি সহায়তা নম্বরে ফোন আসে। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে বাড়ির বিভিন্ন অংশ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৪৬ বছর বয়সি এক নারী ও তার চার ও বারো বছর বয়সি দুই সন্তান। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুই শিশুই গুরুতর অটিজম ও বিকাশজনিত জটিলতায় ভুগছিল।

অভিযুক্ত ৪৭ বছর বয়সি শমন আহামেদকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যার অভিযোগ আনা হয়। পুলিশ ধারণা করছে, হত্যাকাণ্ডগুলো সোমবার দিনের কোনো একসময় সংঘটিত হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ ও পারিবারিক দায়িত্বের ভারে বিপর্যস্ত ছিলেন শমন আহামেদ। তিনি মূলত ঘরে থেকে দুই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর দেখাশোনা করতেন। আর তার স্ত্রী বাইরে কাজ করতেন। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ক্যানসার থেকে সুস্থ হওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়েন এবং ধীরে ধীরে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।

এদিকে ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, পরিবারটি খুবই শান্ত ও নিরিবিলি জীবনযাপন করত। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ওদের কখনো ঝগড়া করতে শুনিনি। শিশু দুটিকে মাঝে মাঝে দেখতাম। এখন মনে হচ্ছে, আমরা হয়তো তাদের ভেতরের কষ্টটা বুঝতেই পারিনি। ঘটনার পর বাড়ির সামনে ফুল রেখে শ্রদ্ধা জানান স্থানীয়রা। অনেককে কান্নাজড়িত অবস্থায় দেখা যায়। 

এক নারী প্রতিবেশী বলেন, এই ছোট শিশুদের কথা ভাবলেই বুকটা ভেঙে যায়।

মঙ্গলবার ক্যাম্পবেলটাউন লোকাল কোর্টে মামলাটি প্রথমবারের মতো উপস্থাপন করা হয়। অভিযুক্ত আদালতে স্থিত হননি এবং জামিনের আবেদনও করেননি। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে আগামী ১৫ জুলাই পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অভিযুক্তের আইনজীবী জাওয়াদ হোসেইন বলেন, ঘটনার পর থেকে আমার মক্কেল মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত অবস্থায় আছেন। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের ভারপ্রাপ্ত সুপারিন্টেন্ডেন্ট মাইকেল মোরোনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং মর্মান্তিক। তদন্তকারীরা সবদিক গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছেন। তিনি আরও জানান, এর আগে পরিবারটিকে ঘিরে কোনো পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ পুলিশের কাছে ছিল না।

ঘটনার পর প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজেও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পরিবারগুলোর মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার মানসিক চাপ নিয়ে আরও খোলামেলা সামাজিক সচেতনতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কমিউনিটির অনেকে।

বর্তমানে ক্যাম্পবেলটাউন সিটি পুলিশ ডিটেক্টিভ ইউনিট ও স্টেট ক্রাইম কমান্ডের হোমিসাইড স্কোয়াড যৌথভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনো নিহতদের পূর্ণ পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি বলে জানা গেছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!