ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

রমজানে কি শয়তান বন্দি থাকে? হাদিস ও ব্যাখ্যা

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম
শয়তান বন্দি থাকলেও মানুষ পাপ করে কেন । ছবি : সংগৃহীত

রমজান মাস মুসলমানদের ইবাদতের মাস। রমজান মুসলমানদের হৃদয়ে রহমত হিসেবে আগমন করে। মুসলমানরা যেন যথাযথভাবে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করতে পারেন, সে জন্য আল্লাহ বিতাড়িত শয়তানকে বন্দি করে রাখেন।

হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, “যখন রমজান উপস্থিত হয়, জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং দুষ্ট শয়তানদের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয়।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৯৯)

হাদিস বিশারদরা উল্লিখিত হাদিসের কয়েকটি ব্যাখ্যা করেছেন—

এক. কাজি ইয়াজ (রহ.) বলেন, শয়তান শিকলে আবদ্ধ থাকার অর্থ আক্ষরিক ও রূপক-উভয়ই হতে পারে। রূপক অর্থে এর দ্বারা বোঝানো হয়েছে, রমজানে শয়তানের ধোঁকা-প্রবঞ্চনা কমে যায়, অন্যায় কাজ হ্রাস পায় এবং মানুষের মধ্যে আল্লাহর বিধান পালনের আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। এ অর্থে হাদিসে বাস্তব জীবনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যার বাস্তবতা আমরা প্রত্যক্ষ করি। (ইকমালুল মুলিম: ৪/৬)

আর আক্ষরিক অর্থ গ্রহণ করলে বোঝায়, মানুষ সাধারণত দুই কারণে পাপ করে-১. নিজের কুপ্রবৃত্তি ও বদ-অভ্যাসের কারণে; ২. শয়তানের প্ররোচনায়। রমজানে শয়তান বন্দি থাকলেও কুপ্রবৃত্তির কারণে মানুষ পাপ করতে পারে। (ফাতহুল বারি: ৪/১১৪)

দুই. আল্লামা আইনি (রহ.) বলেন, শয়তানকে ওই সব রোজাদারের কাছ থেকে দূরে রাখা হয়, যারা রোজার আদব ও শর্ত সঠিকভাবে পালন করেন। কিন্তু যারা এসবের প্রতি উদাসীন, তাদের থেকে শয়তানকে আবদ্ধ রাখা নাও হতে পারে। (উমদাতুল কারি: ১০/২৭০)

তিন. ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) ফতহুল বারিতে লিখেছেন, “রমজানে শয়তান বাঁধা থাকে”-অনেকের মতে এর অর্থ হলো, মুসলমানরা রমজানে রোজা রাখেন, কোরআন তেলাওয়াত ও জিকিরে বেশি সময় ব্যয় করেন। ফলে তাদের কুপ্রবৃত্তি দমিত ও নিয়ন্ত্রিত থাকে। এ কারণে শয়তান তাদের ধোঁকা দিতে পারে না। শয়তানকে আক্ষরিক অর্থে বেঁধে রাখা হয়-এমনটি নয়।

শয়তান বন্দি থাকলেও মানুষ পাপ করে কেন?

হাদিস বিশারদরা এরও কয়েকটি জবাব দিয়েছেন—

এক. রমজানের আগে করা পাপের প্রভাব রমজানেও থেকে যেতে পারে। যেমন দীর্ঘ সময় আগুনে রাখা লোহা আগুন থেকে সরানোর পরও কিছুক্ষণ গরম থাকে। আবার চলন্ত গাড়ি থামালেও কিছু দূর এগোয়। তেমনি ১১ মাসের পাপের প্রভাবে রমজানেও কারও কারও থেকে পাপ সংঘটিত হতে পারে।

দুই. কিছু ব্যাখ্যাকারীর মতে, রমজানে সব শয়তানকে নয়, কেবল বড় ও দুষ্ট শয়তানদের বন্দি করা হয়। ফলে অন্য শয়তানদের প্ররোচনায় মানুষ পাপ করতে পারে। (ফাতহুল বারি: ৪/১১৪)

তিন. আল্লাহ তাআলা সুরা নাসে বান্দাদের মানুষ ও জিন-উভয় ধরনের শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনার নির্দেশ দিয়েছেন, যারা মানুষের মনে কুমন্ত্রণা দেয়। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, মানুষের মধ্যেও এক ধরনের শয়তান রয়েছে, যারা কুমন্ত্রণা দেয়। রমজানে জিন শয়তান বন্দি থাকলেও মানুষরূপী শয়তানদের কার্যক্রম চলতে পারে।

চার. কেউ কেউ বলেন, রমজানে বন্দি থাকার কারণে শয়তানের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ বন্ধ থাকলেও পরোক্ষ প্রভাব পুরোপুরি বন্ধ হয় না। তাই মানুষ পাপাচারে লিপ্ত হতে পারে। (শরহুন নববি আলা মুসলিম: ৭/১৮৭; শরহুস সুয়ুতি আলা মুসলিম: ৩/১৮৩; মিরকাতুল মাফাতিহ: ৪/১৩৪১; ফয়জুল বারি: ৪/৩২৭)