ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ইসলামে বদলি হজের বিধান ও পালনকারীর শর্তাবলি

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
ইসলামে বদলি হজ নিয়ম| ছবি : সংগৃহীত

আর্থিক ও শারীরিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলমানের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। তবে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা আর্থিকভাবে সচ্ছল হলেও শারীরিক অসুস্থতা বা বার্ধক্যের কারণে হজ করতে পারছেন না, কিংবা হজ ফরজ হওয়া সত্ত্বেও তা পালন করার আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে ইসলাম ‘বদলি হজ’-এর বিশেষ বিধান রেখেছে।

ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে হজ অন্যতম। ইসলামি শরিয়তে ‘বদলি হজ’ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দয়াময় বিধান। যারা শারীরিক অক্ষমতা বা মৃত্যুর কারণে নিজে হজ করতে পারেন না, তাদের পক্ষ থেকে অন্য কারো হজ সম্পন্ন করাকেই বদলি হজ বলা হয়।

বদলি হজ কী?
শরিয়তের পরিভাষায়, কোনো ব্যক্তি নিজে হজ করতে অক্ষম হলে তার পক্ষ থেকে অন্য কাউকে হজে পাঠানো অথবা কারো মৃত্যুর পর তার অসিয়ত অনুযায়ী তার পক্ষ থেকে হজ আদায় করাকে ‘বদলি হজ’ বলা হয়। এটি মূলত প্রিয়জনের প্রতি দায়িত্ব পালন এবং আল্লাহর ইবাদত পূর্ণ করার একটি মাধ্যম।

বদলি হজের বিধান
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, বদলি হজ জায়েজ এবং এটি করলে মূল ব্যক্তির হজের দায়িত্ব আদায় হয়ে যায়। তবে এর জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে: যেমন, 

অক্ষমতা: যে ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলি হজ করা হবে, তাকে এমন অক্ষম হতে হবে যা থেকে সুস্থ হওয়ার আশা নেই (যেমন: অতি বার্ধক্য বা চিরস্থায়ী রোগ)। সাময়িক অসুস্থতার জন্য বদলি হজ করা যায় না।

মৃত্যু: হজ ফরজ ছিল কিন্তু না করে মারা গেছেন—এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে তার উত্তরাধিকারীরা বদলি হজ করাবেন।

আর্থিক সংস্থান: বদলি হজের যাবতীয় খরচ ওই ব্যক্তি বা তার সম্পদ থেকে বহন করতে হবে।

কারা বদলি হজ করতে পারবেন?
বদলি হজে যাকে পাঠানো হবে, তার মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু গুণ থাকা জরুরি:

নিজে হজ সম্পন্ন করা: যিনি বদলি হজ করবেন, তার নিজের হজ আগে সম্পন্ন করা থাকা উত্তম এবং অধিক গ্রহণযোগ্য। (যদিও কারো কারো মতে নিজের হজ না করেও বদলি হজ করা যায়, তবে এটি অনুত্তম)।

সুস্থ মস্তিষ্ক ও বালেগ হওয়া: হজের নিয়মকানুন বুঝেন এমন প্রাপ্তবয়স্ক ও মানসিকভাবে সুস্থ ব্যক্তিকে পাঠাতে হবে।

নিয়ত করা: ইহরাম বাঁধার সময় যার পক্ষ থেকে হজ করা হচ্ছে, তার নাম উল্লেখ করে বা তার পক্ষ থেকে নিয়ত করা বাধ্যতামূলক।

যারা বদলি হজ করাতে পারেন
বদলি হজ প্রধানত দুই ধরণের ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য:

জীবিত ব্যক্তি: যিনি শারীরিকভাবে এতটাই অক্ষম যে মক্কায় যাওয়ার ক্ষমতা রাখেন না এবং ভবিষ্যতে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

মৃত ব্যক্তি: হজ ফরজ হওয়ার পর কেউ যদি হজ না করে মারা যান, তবে তার রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে বদলি হজ করানো তার ওয়ারিশদের জন্য আবশ্যক (যদি মৃত ব্যক্তি অসিয়ত করে যান)।

বদলি হজের সওয়াব
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দরবারে এক নারী এসে তার বৃদ্ধ পিতার পক্ষ থেকে হজ করার অনুমতি চাইলে তিনি তাকে অনুমতি দেন এবং বলেন, “তোমার বাবার যদি ঋণ থাকতো তবে কি তুমি তা পরিশোধ করতে না? আল্লাহর ঋণ (হজ) আরও বেশি আদায়যোগ্য।” (সহিহ বুখারি)।

বদলি হজ ইসলামের একটি রহমত স্বরূপ বিধান। এটি যেমন জীবিত অক্ষম ব্যক্তির ইবাদত পূর্ণ করতে সাহায্য করে, তেমনি মৃত ব্যক্তির আত্মার মাগফেরাতের পথ সুগম করে। তবে এই হজ আদায়ের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত এবং হজের মাসয়ালা সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে নির্বাচন করা জরুরি।