ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

অজুর সময় কখন এবং কোন দোয়া পড়লে মিলবে অসীম সওয়াব?

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৭, ২০২৬, ১০:৩৫ এএম
অজুর সময় কখন এবং কোন দোয়া পড়লে মিলবে অসীম সওয়াব? ছবি : সংগৃহীত

ইসলামে পবিত্রতা অর্জনের প্রধান মাধ্যম হলো অজু। কেবল নামাজের জন্যই নয়, বরং সারাক্ষণ অজুরত থাকা একজন মুমিনের অন্যতম গুণ। অজু করার সময় নির্দিষ্ট কিছু দোয়া ও জিকির পাঠ করার মাধ্যমে এই ইবাদতকে আরও পূর্ণাঙ্গ করা সম্ভব। অজুর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দোয়াগুলো কখন এবং কীভাবে পড়তে হয়, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

অজু নামাজের পূর্বশর্ত এবং ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। অজু শুরুর আগে এবং শেষ করার দোয়াগুলোর মাধ্যমে এই আমলের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

১. অজু শুরুর দোয়া
অজু শুরু করার আগে মনে মনে নিয়ত করা জরুরি। এরপর মুখে `বিসমিল্লাহ; বলে অজু শুরু করতে হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি অজুর শুরুতে আল্লাহর নাম নেয় না, তার অজু (পূর্ণাঙ্গ) হয় না। (আবু দাউদ)।

দোয়া: بِسْمِ اللَّهِ (বিসমিল্লাহ)।

অর্থ: আল্লাহর নামে (শুরু করছি)।

নিয়ম: দুই হাতের কবজি ধোয়ার ঠিক আগেই এটি পড়তে হয়।

২. অজু চলাকালীন আমল
অজু করার সময় দুনিয়াবি কথা না বলে মনে মনে আল্লাহর জিকির করা উত্তম। অনেকে অঙ্গ ধোয়ার সময় আলাদা আলাদা দোয়া পড়েন, তবে বিশুদ্ধ হাদিস অনুযায়ী সেগুলোর সুনির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা নেই। তবে অজুর মাঝখানে এই দোয়াটি পড়া যায়:

দোয়া: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي، وَوَسِّعْ لِي فِي دَارِي، وَبَارِكْ لِي فِي رِزْقِي

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফিরলি জাম্বি, ওয়া ওয়াসসি’লি ফি দারি, ওয়া বারিক লি ফি রিজকি।

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার গুনাহ ক্ষমা করুন, আমার ঘরকে প্রশস্ত করে দিন এবং আমার রিজিকে বরকত দান করুন।

৩. অজু শেষ করার পর বিশেষ দোয়া
অজুর প্রধান সওয়াব নিহিত রয়েছে এর সমাপ্তি পর্যায়ের দোয়াগুলোতে। অজুর পর দুটি বিশেষ দোয়ার বর্ণনা হাদিসে পাওয়া যায়:

ক. কালিমায়ে শাহাদাত:
হজরত ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি ভালোভাবে অজু করার পর এই দোয়াটি পড়বে, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হবে।" (সহিহ মুসলিম)।

দোয়া: أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

উচ্চারণ: আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।

অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল।

খ. তওবার দোয়া:
তিরমিজি শরিফের বর্ণনায় শাহাদাত কালিমার পর এই অংশটুকু যোগ করার কথা রয়েছে:

দোয়া: اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাজ আলনি মিনাত তাউওয়াবিনা ওয়াজ আলনি মিনাল মুতাতাহহিরিন।

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমাকে তওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।

অজুর দোয়ার গুরুত্ব ও ফজিলত
অজু কেবল শরীর পরিষ্কার করে না, বরং এটি মানুষের আত্মিক শুদ্ধি ঘটায়। দোয়ার মাধ্যমে অজু করলে প্রতিটি অঙ্গ ধোয়ার সময় সেই অঙ্গ দিয়ে করা গুনাহগুলো ঝরে যায়। বিশেষ করে অজুর শেষের দোয়াটি জান্নাতে প্রবেশের পথ সুগম করে দেয়।