ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মাছের পেটে নবী ইউনুসের সেই দোয়া, যা আজও মুমিনের রক্ষাকবচ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ০৯:৪১ এএম
দোয়া ইউনুস। ছবি : সংগৃহীত

মানুষের জীবনে বিপদ-আপদ আসা স্বাভাবিক। প্রতিকূল এই সময়ে মুমিনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো দোয়া। আর বিপদে আল্লাহর সাহায্য লাভের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী দোয়াগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘দোয়া ইউনুস’। মাছের পেটে থাকা অবস্থায় চরম সংকটে হযরত ইউনুস (আ.) এই দোয়ার মাধ্যমেই আল্লাহর ক্ষমা ও সাহায্য লাভ করেছিলেন।

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত অত্যন্ত শক্তিশালী এবং কার্যকর একটি দোয়া হলো ‘দোয়া ইউনুস’। বিপদ মুক্তির মহৌষধ ‘দোয়া ইউনুস’ এর রয়েছে অসীম ফজিলত। 

দোয়া ইউনুসের প্রেক্ষাপট
পবিত্র কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, হযরত ইউনুস (আ.) যখন আল্লাহর নির্দেশের অপেক্ষায় না থেকে নিজ জনপদ ত্যাগ করে নৌকায় চড়েন, তখন এক অলৌকিক পরিস্থিতিতে তিনি সাগরে নিক্ষিপ্ত হন। এরপর একটি বিশাল মাছ তাঁকে গিলে ফেলে। মাছের পেটে সেই ঘুটঘুটে অন্ধকারে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে তিনি নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং অত্যন্ত কাতর হয়ে আল্লাহর দরবারে এই দোয়াটি পাঠ করেন। আল্লাহ তাঁর তওবা কবুল করেন এবং তাঁকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে অলৌকিকভাবে উদ্ধার করেন।

উচ্চারণ ও অর্থ
আরবি: لَّا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায যলিমীন।
অর্থ: “আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আপনি পবিত্র-মহান! নিশ্চয়ই আমি অপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত।” (সূরা আম্বিয়া, আয়াত: ৮৭)

দোয়া ইউনুসের গুরুত্ব ও ফজিলত
হাদিস ও ধর্মীয় কিতাবসমূহে এই দোয়ার বিশেষ কিছু ফজিলত বর্ণিত হয়েছে:

১. বিপদ থেকে মুক্তি: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, “কোনো মুসলিম ব্যক্তি যদি বিপদে পড়ে এই দোয়া পাঠ করে, আল্লাহ অবশ্যই তার দোয়া কবুল করেন।” (তিরমিজি)

২. চিন্তা ও উদ্বেগ দূরীকরণ: কঠিন মানসিক চাপ বা উদ্বেগের সময় এই দোয়া পাঠ করলে মনে প্রশান্তি আসে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ রহমত নাজিল হয়।

৩. তওবা কবুল: এই দোয়ার মাধ্যমে বান্দা নিজের সীমাবদ্ধতা ও আল্লাহর বড়ত্ব স্বীকার করে, যা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়।
৪. অসুস্থতা থেকে আরোগ্য: অনেক ওলামায়ে কেরাম কঠিন রোগ-বালাই ও অসুস্থতার সময় অধিক পরিমাণে এই দোয়া পাঠ করার পরামর্শ দেন।

কীভাবে আমল করবেন?
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, এই দোয়ার কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। তবে যেকোনো নেক মাকসুদ হাসিল বা বিপদ থেকে বাঁচতে একাগ্রতার সাথে তিলাওয়াত করা উচিত। বিশেষ করে সেজদার মধ্যে বা তাহাজ্জুদের সময় এই দোয়া পাঠের বিশেষ প্রভাব রয়েছে।

দোয়া ইউনুস কেবল একটি দোয়া নয়, বরং এটি আল্লাহর ওপর অগাধ বিশ্বাস ও আত্মসমর্পণের প্রতীক। পৃথিবীর সমস্ত মাধ্যম যখন ব্যর্থ হয়, তখন ‘লা ইলাহা ইল্লা আনতা’র জিকিরই মুমিনের জন্য আশার আলো হয়ে দাঁড়ায়।