ইসলামি শরিয়তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো কোরবানি। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পশু জবাই করা সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিমের জন্য একটি অপরিহার্য কর্তব্য। তবে কোরবানি কি সবার জন্য ফরজ? কাদের ওপর কোরবানি করা বাধ্যতামূলক, এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রায়ই কৌতূহল দেখা যায়।
কোরবানি কি ফরজ?
ইসলামি ফিকহবিদ ও অধিকাংশ আলেমের মতে, সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর কোরবানি করা ‘ওয়াজিব’ (যা পালন করা আবশ্যক)। যদিও অনেকে সাধারণ ভাষায় এটিকে ফরজ বলে থাকেন, তবে শরিয়তের পরিভাষায় এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ বা ওয়াজিব হিসেবে গণ্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের ধারে-কাছেও না আসে।” (সুনানে ইবনে মাজাহ)।
কাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব?
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ অর্থাৎ কোরবানির দিনগুলোতে যার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ‘নিসাব’ পরিমাণ সম্পদ থাকবে, তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার প্রধান শর্তগুলো হলো:
১. মুসলিম হওয়া: কোরবানি শুধুমাত্র মুসলিমদের জন্য নির্ধারিত ইবাদত।
২. মুক্ত ও স্বাধীন হওয়া: কোনো দাসের ওপর কোরবানি বাধ্যতামূলক নয়।
৩. বালিগ বা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া: অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়।
৪. সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হওয়া: মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়।
৫. মুসাফির না হওয়া: শরিয়তের দৃষ্টিতে মুসাফির বা ভ্রমণকারীর ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়। তবে তিনি চাইলে নফল হিসেবে কোরবানি দিতে পারেন।
৬. সামর্থ্যবান হওয়া (নিসাব): এটিই কোরবানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
নিসাবের পরিমাণ কত?
কোরবানির নিসাব হলো—সোনা বা রুপা কিংবা নগদ অর্থ বা ব্যবসার পণ্য যার বাজারমূল্য সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে ৫২ তোলা রুপার সমপরিমাণ হয়।
বিঃদ্রঃ জাকাতের ক্ষেত্রে সম্পদ এক বছর হাতে থাকা শর্ত হলেও কোরবানির ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। কোরবানির তিন দিনের যেকোনো একদিন এই পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকলেই কোরবানি ওয়াজিব হবে।
পরিবারের সবার পক্ষ থেকে কোরবানি?
পরিবারের একাধিক সদস্য যদি পৃথকভাবে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তবে প্রত্যেকের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে কোরবানি করা ওয়াজিব। তবে যৌথ পরিবারের ক্ষেত্রে সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা মিলে একটি গরু বা উটে অংশ নিতে পারেন (সর্বোচ্চ সাত ভাগ)।
কোরবানি কেবল রক্ত প্রবাহিত করার নাম নয়, বরং এটি ত্যাগের মহিমা ও তাকওয়া অর্জনের মাধ্যম। তাই সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের উচিত সঠিক নিয়মে কোরবানি আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা।

