ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

হজ না করেও হজের সওয়াব! যে ৪ আমলে মিলবে হজের নেকি

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৯:১১ এএম
হজ না করেও হজের সওয়াব। ছবি : সংগৃহীত

প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য জীবনে একবার হজ করা ফরজ। তবে আর্থিক বা শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকেই পবিত্র কাবা শরিফে যাওয়ার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও যেতে পারেন না। মহান আল্লাহ তায়ালা দয়ালু; তাই তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য এমন কিছু আমল নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করলে হজের সমান সওয়াব পাওয়া সম্ভব।

ইসলামি চিন্তাবিদ ও ওলামায়ে কেরামদের মতে, হজের বিকল্প আমলগুলো মূলত সওয়াব অর্জনের মাধ্যম, তবে এটি ফরজ হজকে প্রতিস্থাপন করে না। অর্থাৎ যার ওপর হজ ফরজ, তাকে অবশ্যই হজ করতে হবে।

নিচে এমন ৪টি বিশেষ আমলের কথা তুলে ধরা হলো:

১. ইশরাকের নামাজ আদায় করা
হজের সওয়াব পাওয়ার সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকরী আমল হলো সূর্যোদয়ের পর নফল নামাজ আদায় করা। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ফজরের নামাজ আদায় করে, এরপর সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে আল্লাহর জিকির করে এবং সূর্য ওঠার পর দুই রাকাত নামাজ (ইশরাক) পড়ে, সে একটি পূর্ণ হজ ও একটি পূর্ণ ওমরাহর সওয়াব পাবে।” (তিরমিজি)

২. মসজিদে দ্বীন শিক্ষা করতে যাওয়া
পবিত্র মসজিদে গিয়ে দ্বীনি শিক্ষা অর্জন করা বা কোনো কল্যাণকর বিষয় শেখার গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো ভালো কথা শেখার বা শেখানোর উদ্দেশ্যে মসজিদে যায়, সে একজন পূর্ণ হজ সম্পাদনকারী হাজির মতো সওয়াব পাবে।” (তাবারানি)

৩. জামাতে নামাজ আদায় ও জিকির
মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ পড়ার সওয়াব অনেক বেশি। আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি নিজের ঘর থেকে অজুর সঙ্গে ফরজ নামাজের উদ্দেশ্যে বের হয়, তার সওয়াব হজের ইহরাম পরিহিত হাজির সওয়াবের সমান।” (আবু দাউদ)। এছাড়া নামাজের পর বিশেষ তাসবিহ পাঠের মাধ্যমেও হজের সমান নেকি পাওয়ার কথা হাদিসে বর্ণিত আছে।

৪. বাবা-মায়ের সেবা করা
সন্তানের জন্য বাবা-মায়ের সেবার চেয়ে উত্তম কাজ আর কিছু হতে পারে না। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে জিহাদে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে তিনি তাকে তার মায়ের সেবা করার নির্দেশ দেন এবং বলেন, “যদি তুমি তা করো, তবে তুমি একজন হাজি, একজন ওমরাহকারী এবং একজন মুজাহিদের সওয়াব পাবে।” (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ)

হজ না করতে পারার আক্ষেপ যাদের মনে আছে, তারা এই আমলগুলোর মাধ্যমে নিজেদের আমলনামা সমৃদ্ধ করতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, এই সওয়াবগুলো কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির ওপর নির্ভরশীল। বিশুদ্ধ নিয়ত এবং একনিষ্ঠ আমলই পারে একজন মুমিনকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে।