পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তি আনে। তবে কর্মব্যস্ত জীবনে অনেকের পক্ষেই প্রতিদিন পুরো কুরআন খতম করা সম্ভব হয় না। মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর অশেষ মেহেরবানিতে এমন কিছু ছোট সূরা ও আমল আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন, যা পাঠ করলে অল্প সময়েই বিশাল সওয়াব হাসিল করা যায়। এর মধ্যে অন্যতম হলো সূরা আল-ইখলাস।
সহিহ হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, এই সূরাটি তিনবার পাঠ করলে এক খতম কোরআন তিলাওয়াতের সওয়াব পাওয়া যায়।
সূরা ইখলাস ও এক খতম কোরআনের সওয়াব
পবিত্র কুরআনের ১১২ নম্বর সূরা হলো সূরা আল-ইখলাস। এটি আকারে ছোট হলেও এর ভাবগাম্ভীর্য ও গুরুত্ব অপরিসীম। আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর সাহাবিদের জিজ্ঞেস করলেন, “তোমাদের কেউ কি এক রাতে এক-তৃতীয়াংশ কোরআন পড়তে পারো?" সাহাবিরা বিষয়টি কঠিন মনে করলেন। তখন রাসুল (সা.) বললেন, "সূরা ইখলাস হলো কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ।” (সহিহ বুখারি)
এই হাদিসের ব্যাখ্যায় ইসলামি চিন্তাবিদগণ বলেন, যেহেতু তিন ভাগে এক ভাগ সওয়াব এই এক সূরায় পাওয়া যায়, তাই কেউ তিনবার এটি পাঠ করলে আল্লাহ তায়ালা তাকে পূর্ণ এক খতম কোরআনের সওয়াব দান করবেন।
কেন এই সূরা এত মর্যাদাপূর্ণ?
সূরা ইখলাসকে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ বলার কয়েকটি যৌক্তিক কারণ বর্ণনা করেছেন ওলামায়ে কেরাম:
১. তাওহিদের বর্ণনা: কোরআনের মূল বিষয়বস্তু তিনটি—তাওহিদ (একত্ববাদ), আহকাম (বিধান) এবং কিসাস (ইতিহাস)। সূরা ইখলাসে সম্পূর্ণভাবে তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদ বর্ণিত হয়েছে।
২. আল্লাহর পরিচয়: এই সূরায় আল্লাহর গুণাবলি ও তাঁর অনন্য সত্তার পরিচয় এমনভাবে দেওয়া হয়েছে যা অন্য কোথাও নেই।
এই আমলের বিশেষ ফজিলত
জান্নাত লাভ: এক হাদিসে এসেছে, এক সাহাবি এই সূরাটিকে খুব ভালোবাসতেন এবং প্রতি নামাজে এটি পড়তেন। রাসুল (সা.) তাকে বলেছিলেন, “এই সূরার প্রতি তোমার ভালোবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।”
নিরাপত্তা: ঘুমানোর আগে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করে শরীরে ফুঁ দিলে বিভিন্ন অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
রমজান মাস কিংবা সাধারণ দিনগুলোতে যারা সময়ের অভাবে বেশি তিলাওয়াত করতে পারেন না, তারা উঠতে-বসতে বা কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এই আমলটি করতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, সওয়াব পাওয়া আর পুরো কুরআন পড়ার হক আদায় করা এক নয়। তাই সওয়াব অর্জনের পাশাপাশি সুযোগ বুঝে পুরো কুরআন তিলাওয়াতের চেষ্টা করাও মুমিনের কর্তব্য।


