ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

হালাল রিজিক আত্মিক প্রশান্তি ও বরকতের মূল উৎস

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০৯:৩৯ এএম
হালাল রিজিক আত্মিক প্রশান্তি ও বরকতের মূল উৎস। ছবি : সংগৃহীত

মানবজীবনে রিজিক বা উপার্জনের গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলাম কেবল ইবাদত-বন্দেগির ধর্ম নয়, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। ইসলামে কর্মসংস্থান ও উপার্জনের প্রচেষ্টাকে ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তবে তার জন্য প্রধান শর্ত হলো উপার্জনটি হতে হবে ‘হালাল’ বা বৈধ। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য ব্যাপক। 

১. ইবাদত কবুলের মূল চাবিকাঠি
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, একজন ব্যক্তির দোয়া এবং ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য হালাল রিজিক অপরিহার্য। রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘একজন ব্যক্তি দীর্ঘ সফর করে ক্লান্ত, তার চুল এলোমেলো, সে আকাশের দিকে হাত তুলে বলছে— হে প্রভু! হে প্রভু! অথচ তার খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পোশাক হারাম এবং সে হারামেই লালিত-পালিত হয়েছে। তার দোয়া কীভাবে কবুল হতে পারে?’ (সহিহ মুসলিম)। অর্থাৎ, হারাম উপার্জনে পুষ্ট দেহ নিয়ে ইবাদত করলে তা আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না।

২. পবিত্র কোরআনের নির্দেশনা
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনের বহু জায়গায় হালাল রিজিক গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। সূরা বাকারার ১৬৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:

“হে মানবজাতি! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র বস্তু রয়েছে, তা থেকে তোমরা আহার করো।”

আল্লাহ তাআলা কেবল সাধারণ মানুষকে নয়, বরং আম্বিয়া কেরামদেরও হালাল উপার্জনের নির্দেশ দিয়েছেন।

৩. নবীদের সুন্নাহ ও শ্রমের মর্যাদা
উপার্জনের জন্য শ্রম দেওয়া নবীদের সুন্নাহ। দাউদ (আ.) নিজ হাতে বর্ম তৈরি করে তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) নবুয়ত প্রাপ্তির আগে ব্যবসা এবং ছাগল চড়িয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘নিজ হাতের কামাইয়ের চেয়ে উত্তম আহার আর কেউ কখনো খায়নি।’ (সহিহ বুখারি)। ইসলামে কোনো কাজই ছোট নয়, যদি তা হালাল পথে হয়।

৪. সামাজিক ও নৈতিক প্রভাব
হারাম উপার্জন সমাজে বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি এবং বৈষম্য তৈরি করে। সুদ, ঘুষ, ওজনে কম দেওয়া বা অন্যের হক আত্মসাৎ করার মাধ্যমে যে অর্থ আসে, তাতে বরকত থাকে না। অন্যদিকে, হালাল উপার্জন ব্যক্তির মনে প্রশান্তি আনে এবং পারিবারিক জীবনে সুখ-শান্তি নিশ্চিত করে। হারামে উপার্জিত অর্থ দিয়ে দান-সদকা করলেও তাতে কোনো সওয়াব পাওয়া যায় না।

৫. পরকালীন জবাবদিহিতা
কিয়ামতের দিন প্রতিটি মানুষকে পাঁচটি প্রশ্ন করা হবে, যার মধ্যে দুটিই থাকবে তার সম্পদ নিয়ে। প্রশ্ন দুটি হলো- ‘সে তার সম্পদ কোন পথে উপার্জন করেছে?’ এবং ‘কোন পথে তা ব্যয় করেছে?’ (তিরমিজি)। সুতরাং অর্থ কেবল থাকলেই হবে না, তার উৎস সম্পর্কে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

পরিশেষে বলা যায়, হালাল উপার্জন কেবল ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা নয়, বরং এটি আত্মিক পবিত্রতারও মাধ্যম। একজন মুমিনের উচিত অল্প হলেও হালাল উপার্জনে তুষ্ট থাকা এবং সর্বাবস্থায় হারাম থেকে নিজেকে দূরে রাখা। কারণ, হারাম উপার্জনে গড়ে ওঠা শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না।