ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

এক পশুতে সাত ভাগে কোরবানির বিধান নিয়ে যা বলছে ইসলাম

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
এক পশুতে সাত ভাগে কোরবানি। ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহা সমাগত। সামর্থ্যবান মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আমাদের সমাজে গরু, মহিষ বা উটের ক্ষেত্রে ভাগে কোরবানি দেওয়ার প্রচলন বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য বড় পশুর অংশীদার হওয়া আর্থিকভাবে সুবিধাজনক। তবে ‘সাত ভাগে কোরবানি’ দেওয়ার সঠিক ধর্মীয় বিধান কী, তা নিয়ে অনেকের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে।

এক পশুতে কয়জন অংশীদার হতে পারে?
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা দিয়ে কেবল একজনই কোরবানি দিতে পারেন। তবে বড় পশু যেমন- গরু, মহিষ ও উটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাতজন অংশীদার হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

হাদিস গ্রন্থ সহিহ মুসলিমের একটি বর্ণনা অনুযায়ী, জাবের (রা.) বলেছেন: “আমরা হুদাইবিয়ার সন্ধির বছর আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে কোরবানি করেছি। তখন আমরা একটি উট সাতজনের পক্ষ থেকে এবং একটি গরু সাতজনের পক্ষ থেকে কোরবানি করেছিলাম।’

ভাগে কোরবানির অপরিহার্য শর্তাবলি
ভাগে কোরবানি দেওয়ার ক্ষেত্রে আলেম ও ফকিহগণ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন:

১. উদ্দেশ্য হতে হবে শুদ্ধ: অংশীদারদের সবার উদ্দেশ্য হতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি। যদি সাতজনের মধ্যে একজনেরও উদ্দেশ্য শুধু মাংস খাওয়া হয় বা লোক দেখানো হয়, তবে বাকিদের কোরবানিও কবুল হবে না।

২. হালাল উপার্জন: কোরবানির পশুর প্রতিটি ভাগের টাকা অবশ্যই হালাল উৎস থেকে আসতে হবে। কোনো একজন অংশীদারের টাকা হারাম হলে পুরো কোরবানি প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

৩. ন্যূনতম অংশ: গরুর ক্ষেত্রে সাতজনের বেশি অংশীদার হওয়া যাবে না। তবে সাতজনের কম (যেমন- দুই, তিন বা পাঁচজন) মিলে একটি গরু কোরবানি দেওয়া জায়েজ।

৪. সমান বণ্টন: কোরবানি শেষে পশুর মাংস ওজন করে সমানভাবে বণ্টন করতে হবে। অনুমান করে ভাগ করা শরিয়তসম্মত নয়।

আলেমদের পরামর্শ
বিশিষ্ট আলেমদের মতে, সামর্থ্য থাকলে এককভাবে কোরবানি দেওয়া উত্তম। তবে সামাজিক ও আর্থিক বাস্তবতায় সাত ভাগে কোরবানি দেওয়া সম্পূর্ণ বৈধ এবং এটি সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। ভাগে কোরবানির ক্ষেত্রে অংশীদার নির্বাচনে সতর্ক থাকা জরুরি, যাতে সবার নিয়ত এবং উপার্জনের স্বচ্ছতা বজায় থাকে।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে:

“আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না এগুলোর গোশত এবং রক্ত, বরং তাঁর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।” (সূরা হজ, আয়াত: ৩৭)

তাই ভাগ কটি হলো তার চেয়ে বড় বিষয় হলো, আল্লাহর প্রতি বান্দার আনুগত্য ও আন্তরিকতা কতটা গভীর।