ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশ্বকাপ মানেই উন্মাদনা। তবে গ্রুপ পর্ব চলাকালে প্রতিদিন একাধিক ম্যাচ হওয়ায় পুরো টুর্নামেন্ট অনুসরণ করা অনেকের কাছেই সময়সাপেক্ষ ও ক্লান্তিকর। অথচ দুই ফুটবল ভক্ত সেই কাজটিই করছেন পেশা হিসেবে, আর এর জন্য পাচ্ছেন মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক।
মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স করপোরেশন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ফক্স ওয়ান কেভিন আকোতো ও অস্টিন ফ্রাঙ্কলিনকে ‘চিফ ওয়ার্ল্ড কাপ ওয়াচারস’ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তাদের দায়িত্ব হলো বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচ দেখা এবং টুর্নামেন্ট ঘিরে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরি করা। এই কাজের জন্য তারা প্রত্যেকে পাবেন ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।
টাইমস স্কয়ারে তাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ কাচঘেরা একটি কক্ষ। সেখানে রয়েছে রিক্লাইনার চেয়ার, বড় পর্দার টেলিভিশন, সোফা, ফুসবল টেবিল এবং ফুটবলপ্রেমীদের জন্য নানা আয়োজন। পাশাপাশি রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের খাবার ও স্ন্যাকস।
কেভিনের ভাষায়, একজন ফুটবল সমর্থক তার স্বপ্নের ঘরে যা কল্পনা করতে পারেন, তার প্রায় সবই রয়েছে এই বিশেষ কক্ষে।
ফ্লোরিডার রাঁধুনি কেভিন আকোতো এবং ফিলাডেলফিয়ার কনটেন্ট নির্মাতা অস্টিন ফ্রাঙ্কলিন হাজারো আবেদনকারীর মধ্য থেকে এই ব্যতিক্রমী দায়িত্বের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। ম্যাচ দেখার পাশাপাশি তারা দর্শকদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কনটেন্টও তৈরি করছেন।
টানা ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে কেভিন বলেন, এটি যতটা আনন্দের মনে হয়, বাস্তবে ততটাই চ্যালেঞ্জিং। দীর্ঘ সময় ধরে মনোযোগ ধরে রাখা এবং প্রতিদিনের ব্যস্ত সূচির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা সহজ নয়।
অস্টিনও বলেন, কাজটি অনেকটা ম্যারাথনের মতো। প্রতিদিনের ম্যাচ, বিশ্লেষণ ও কনটেন্ট তৈরির কারণে সময়গুলো কখনো কখনো একে অন্যের সঙ্গে মিশে যায়।
তবে শিফট শেষে তারা নিজেদের আবাসস্থলে ফিরে বিশ্রাম নিতে পারেন।
এই দায়িত্ব পালনের সময় তারা বিশ্বকাপের নানা স্মরণীয় মুহূর্ত কাছ থেকে অনুসরণ করছেন। বিভিন্ন দেশের ম্যাচ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারও তাদের পরিবেশন করা হয়, যা অভিজ্ঞতাকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।
ম্যাচের বিরতিতে বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও পাচ্ছেন তারা। ব্রাজিল, নরওয়ে ও অন্যান্য দেশের সমর্থকদের ফুটবল উন্মাদনা এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার অভিজ্ঞতাকে তারা এই কাজের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
কেভিনের মতে, এবারের বিশ্বকাপে স্পেন শিরোপার অন্যতম দাবিদার। যদিও তিনি ব্যক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ঘানার সমর্থক।
অন্যদিকে অস্টিন বিশ্বাস করেন, নরওয়ে চমক দেখাতে পারে। তার ধারণা, আর্লিং হালান্ডের নেতৃত্বে দলটি শেষ পর্যন্ত শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকতে সক্ষম।
এই অদ্ভুত চাকরিকে কেউ দেখছেন স্বপ্নের সুযোগ হিসেবে, আবার কেউ মনে করছেন টানা এতগুলো ম্যাচ দেখা এবং জনসমক্ষে কাজ করা বেশ চাপের বিষয়। তবে বেশিরভাগ ফুটবলপ্রেমীর কাছেই বিশ্বকাপ দেখে আয় করার সুযোগ নিঃসন্দেহে এক ব্যতিক্রমী ও আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন