ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ক্রিকেটে কোকোর অবদান কতটা, তা জানা উচিত: তামিম ইকবাল

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৫:২৪ এএম
তামিম ইকবাল। কোলাজ : রূপালী বাংলাদেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আসন্ন নির্বাচনে তিনি ঢাকার দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর একটি ঢাকা–১৭ আসন। এই আসনে তার প্রচারণার অংশ হিসেবে ‘সবার ঢাকা–১৭’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

ভিডিওতে তামিম ইকবাল বাংলাদেশের ক্রিকেটে তারেক রহমানের ছোট ভাই প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর অবদান নিয়ে কথা বলেছেন। ভিডিওর শুরুতে সবাইকে সালাম জানিয়ে তামিম বলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটে এমন একজন মানুষের কথা তিনি তুলে ধরতে চান, যার অবদান অনেক আগেই স্বীকৃতি পাওয়া উচিত ছিল। তার ভাষায়, ক্রিকেট অঙ্গনের মানুষদের কাছে আরাফাত রহমান কোকোর অবদান দীর্ঘদিন ধরেই জানা থাকলেও তাকে প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হয়নি।

তামিম ইকবাল বলেন, আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। তবু নানা কারণে তাকে এবং তার পরিবারকে প্রাপ্য সম্মান জানানো সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, পরিবার, বন্ধু-বান্ধব কিংবা ক্রিকেটাঙ্গনে কোকোর অবদান নিয়ে আলোচনা হলেও তা কখনো প্রকাশ্যে সেভাবে উঠে আসেনি।

বাংলাদেশের ক্রিকেট অবকাঠামো উন্নয়নে আরাফাত রহমান কোকোর ভূমিকার কথা তুলে ধরে তামিম বলেন, বর্তমানে ব্যবহৃত মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ছিল কোকোর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিট গঠনের পেছনেও তাঁর অবদান ছিল বলে জানান তিনি। তামিম বলেন, তিনি নিজে, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহসহ অনেক ক্রিকেটার এই এইচপি ইউনিটের প্রথম দিকের অংশ ছিলেন।

বিকেএসপিতে অনুষ্ঠিত ক্যাম্পগুলোর কথা উল্লেখ করে তামিম ইকবাল বলেন, সে সময় ক্রিকেটারদের জন্য যে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হতো, এখনো তা পাওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে তাঁর সন্দেহ রয়েছে। তাঁর মতে, বাংলাদেশের ক্রিকেটে কোকোর অবদান এতটাই বড় যে, তা পুরোপুরি তুলে ধরা কঠিন।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও শেয়ার করেন তামিম। তিনি বলেন, ২০০৬ সালে জাতীয় দলে খেলার সময় একটি দলের সঙ্গে চুক্তি বাতিল হওয়ায় তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। তখন আরাফাত রহমান কোকোর সহায়তায় তিনি ওল্ড ডিওএইচএস দলে খেলেন। ওই মৌসুমে ভালো পারফরম্যান্সের ফলেই তাঁর জাতীয় দলে জায়গা পাকাপোক্ত হয়।

তামিম ইকবাল বলেন, আরাফাত রহমান কোকোর সঙ্গে তার দেখা খুব বেশি না হলেও, প্রতিবার সাক্ষাতে তিনি ক্রিকেট ও খেলোয়াড়দের প্রতি কোকোর গভীর ভালোবাসা ও সম্মান দেখেছেন। তার মতে, কোকো ছিলেন একজন সংগঠক; তিনি কোনো ক্ষমতার পরিচয় নিয়ে বিসিবিতে আসেননি।

ভিডিওতে তামিম আরও বলেন, একজন রাষ্ট্রপতির ছেলে ও একজন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে হয়েও আরাফাত রহমান কোকো ক্রিকেটারদের কাছে ছিলেন ‘কোকো ভাই’। এটিই ছিল তার সবচেয়ে বড় গুণ।

তামিম ইকবাল আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আরাফাত রহমান কোকোর অবদান নিয়ে আরও মানুষ কথা বলবেন। তার মতে, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে কোকো কী ভূমিকা রেখেছেন, তা জানা নতুন প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।