ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

নির্বাচনের পর কার দখলে যাবে বিসিবি?

জাহিদ হাসান মাহা
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম
বিসিবি ভবন। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের ক্রিকেটে একসময় প্রবাদ ছিল—‘মাঠের পারফরম্যান্স যা-ই হোক, বিসিবির চেয়ার নড়বড়ে হয় না।’ কিন্তু সময়ের আবর্তে সেই ধারণা বদলে গেছে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর নাজমুল হাসান পাপনের ‘রিজার্ভ’ করা সিংহাসন টলে যাওয়ার পর থেকেই বিসিবিতে দিক পরিবর্তনের সময় শুরু হয়। 

এখন ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন কি বর্তমান বিসিবি পর্ষদের আয়ু কমিয়ে দেবে?

গত ১৫ বছর ধরে বিসিবি ছিল রাজনীতির একটি সমান্তরাল ক্ষেত্র। বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপনের চেয়ারটি এতটাই সংরক্ষিত ছিল যে সেখানে উঁকি দেওয়ার সাহসও পাননি কেউ। 

অভিযোগ ছিল, বোর্ড প্রধান হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের চেয়ে ‘হাসিনার ঘনিষ্ঠ’ হওয়াটাই ছিল সেখানে বড় মাপকাঠি। জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের মুখে পাপন দেশ ছাড়লে বিসিবিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে বলে আশা করা হয়েছিল।

পাপন-পরবর্তী শূন্যতা পূরণে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে প্রথমে সংক্ষিপ্ত মেয়াদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর ২০২৫ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচন নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্কের মেঘ জমেছে। 

পর্দার আড়াল থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের হস্তক্ষেপে একটি নির্দিষ্ট বলয় বোর্ড দখল করেছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। 

সূত্র মতে, আওয়ামী আমলের সেই ‘পেছনের দিক দিয়ে’ প্রবেশের সংস্কৃতি ২০২৫-এর বিসিবির নির্বাচনেও ভিন্ন আঙ্গিকে ফিরে এসেছে।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন: বিসিবির জন্য কি অশনিসংকেত?

বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বর্তমান বোর্ডের মেয়াদ ২০২৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গঠনতন্ত্র বরাবরই ক্ষমতার কাছে পরাস্ত হয়েছে। 

১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে যে রাজনৈতিক দলই জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাদের প্রথম নজর থাকবে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের লাল ভবনের দিকে।

বিসিবির একজন বর্তমান পদস্থ কর্মকর্তার বক্তব্যে সেই আশঙ্কারই প্রতিফলন ঘটেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় এসেই আগের সব প্রক্রিয়াকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করার পুরোনো চর্চায় ফিরে যেতে পারে। 

২০২৫-এর নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ফের ভোটের আয়োজন করা হলে বর্তমান কমিটির টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

আইসিসির কড়া নিয়ম থাকলেও বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড কখনোই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হতে পারেনি। পর্দার আড়াল থেকে ‘খুঁটি নাড়া’র এই সংস্কৃতি ক্রিকেটের স্বাধীন গতিকে বারবার বাধাগ্রস্ত করেছে। 

২০২৫-এর বোর্ড কি তবে কেবল অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য একটি ‘সান্ত্বনা পুরস্কার’ ছিল? ১২ তারিখের পরের সূর্য বর্তমান কর্তাদের জন্য কতটা উত্তাপ নিয়ে আসবে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।