পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খানের স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি এবং কারাগারে তার প্রতি আচরণের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ক্রিকেট বিশ্বের ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক।
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেলের উদ্যোগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের কাছে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন তারা। চিঠিতে ইমরান খানের মুক্তি, ‘মানবিক মর্যাদা ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধা’ দেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং নিউজিল্যান্ডের নামী সব অধিনায়করা। তাদের মধ্যে রয়েছেন...
ভারত: সুনীল গাভাস্কার ও কপিল দেব।
অস্ট্রেলিয়া: ইয়ান চ্যাপেল, গ্রেগ চ্যাপেল, অ্যালান বোর্ডার, স্টিভ ওয়াহ ও কিম হিউজ।
ইংল্যান্ড: মাইকেল আথারটন, নাসের হুসেইন, মাইকেল ব্রিয়ারলি ও ডেভিড গাওয়ার।
অন্যান্য: ক্লাইভ লয়েড (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), জন রাইট (নিউজিল্যান্ড) এবং বেলিন্ডা ক্লার্ক (অস্ট্রেলিয়া নারী দল)।
ইএসপিএন ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে জানা গেছে, কারাগারে দীর্ঘ আড়াই বছর বন্দি থাকার ফলে ইমরান খানের দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, চিকিৎসার অভাবে তিনি এক চোখে প্রায় অন্ধ হওয়ার পথে।
চিঠিতে অধিনায়করা লিখেছেন, ইমরান খানের স্বাস্থ্যের অবস্থা, বিশেষ করে হেফাজতে থাকাকালীন তার দৃষ্টিশক্তির আশঙ্কাজনক অবনতি আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে তিনি পাকিস্তানের একজন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং খেলাধুলার জগতে তার অবদান অবিস্মরণীয়।
চিঠিতে পাকিস্তানের বর্তমান সরকারের প্রতি তিনটি প্রধান দাবি জানানো হয়েছে। ১. ইমরান খানের পছন্দের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে জরুরি ও নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা। ২. আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কারাগারে মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা। ৩. পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়মিত দেখা করার সুযোগ এবং স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।
কেবল আন্তর্জাতিক অঙ্গনই নয়, পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস এবং শোয়েব আখতারও ইমরান খানের সুচিকিৎসার জন্য সোচ্চার হয়েছেন। ভারতের সাবেক ক্রিকেটার অজয় জাদেজা পাকিস্তানের বর্তমান ক্রিকেটারদেরও এ বিষয়ে মুখ খোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
২০২২ সালে ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে ইমরান খান একাধিক মামলায় কারাবরণ করছেন। যদিও তার সমর্থক এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো সংস্থাগুলো এই বিচারপ্রক্রিয়াকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিহিত করেছে।
সম্প্রতি তার সাত বছরের একটি সাজা উচ্চ আদালতে বাতিল হলেও অন্যান্য মামলায় তিনি এখনো কারাবন্দি। তার সন্তানদের দাবি, ইমরান খানকে একটি অন্ধকার সেলে রেখে মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে, যদিও পাকিস্তান সরকার বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।




