টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে শ্রীলঙ্কার বিদায়টা হলো স্রেফ একরাশ হতাশা আর লজ্জার গল্প নিয়ে। ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের কাছে ৯৫ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর, বুধবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও ব্যাটিং বিপর্যয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে লঙ্কানরা।
দলের এমন করুণ অবস্থায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সাবেক লঙ্কান অলরাউন্ডার পারভেজ মাহরুফ। তার মতে, লঙ্কান ক্রিকেটে এখন বড় ধরনের ‘অপারেশন’(শল্যচিকিৎসা) বা কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।
ম্যাচ পরবর্তী বিশ্লেষণে ইএসপিএন-ক্রিকইনফোকে মাহরুফ বলেন, আমি খুব সহজভাবে বলব—বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক, কষ্টদায়ক এবং লজ্জাজনক।
কলম্বোর পিচ ব্যাটিংয়ের জন্য কঠিন ছিল তা মেনে নিয়েও লঙ্কান ব্যাটারদের আউট হওয়ার ধরনকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। মাহরুফের মতে, পাথুম নিশাঙ্কার উইকেটটি বাদ দিলে বাকি সব ব্যাটারই নিউজিল্যান্ডকে নিজেদের উইকেট ‘উপহার’ দিয়ে এসেছেন।
ইংল্যান্ড ম্যাচে ১০টি উইকেটের সবগুলোই ছিল ‘সফট ডিসমিসাল’। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়েও সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি দেখা গেছে।
মাহরুফ আক্ষেপ করে বলেন, ‘একই ধারা পরের ম্যাচেও বজায় রাখা, সেটিও আবার একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে, এটাই প্রমাণ করে যে শ্রীলঙ্কা ব্যাটিংয়ে মোটেও প্রস্তুত ছিল না।’
টুর্নামেন্টের শুরুতে ওমান ও আয়ারল্যান্ডকে হারানোর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিশাঙ্কার ৫২ বলে করা বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে আশা জেগেছিল লঙ্কান সমর্থকদের মনে। কিন্তু এরপর জিম্বাবুয়ে, ইংল্যান্ড এবং কিউইদের কাছে টানা হেরে সেই আশা এখন ধূলিসাৎ।
লঙ্কান ক্রিকেটের এই অধঃপতনকে একটি ‘বাজে অভ্যাস’ হিসেবে অভিহিত করে মাহরুফ বলেন, গত সাত-আট বছর ধরে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। মাঝেসাঝে দু-একটি ভালো ম্যাচ খেলে তারা সমর্থকদের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু এরপরই আবার মুখ থুবড়ে পড়ে।
নির্বাচক এবং টিম ম্যানেজমেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী সিরিজের আগে নির্বাচক এবং নীতি-নির্ধারকদের ভবিষ্যতের কথা ভাবতে হবে। কার দলে থাকার সক্ষমতা আছে আর কার নেই, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ প্রয়োজন। আশা করি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি তা না হয়, তবে আমি খুব অবাক হব।



