২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালের আগেই টুর্নামেন্ট সেরা বা 'প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট' পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেছে আইসিসি। আট জনের এই তালিকায় দাপট দেখাচ্ছেন ভারত ও নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা।
জানা যায়, টুর্নামেন্ট জুড়ে ব্যাট, বল ও অলরাউন্ড নৈপুণ্যে নজর কাড়া ক্রিকেটারদের মধ্য থেকেই বেছে নেওয়া হবে এবারের আসরের টুর্নামেন্ট সেরা তারকাকে।
ভারতের সাঞ্জু স্যামসন
এবারের বিশ্বকাপে ভারতের বড় প্রাপ্তি সাঞ্জু স্যামসন। শুরুতে একাদশে না থাকলেও ওপেনার অভিষেক শর্মার অফ-ফর্মের কারণে সুযোগ পান তিনি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এখন তিনি আসরের অন্যতম বিধ্বংসী ব্যাটার।
বিশেষ করে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪২ বলে ৮৯ রানের ইনিংসটি তাকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। ২০১.৭৪ স্ট্রাইক রেটে ২৩২ রান করা স্যামসন এখন পর্যন্ত ভারতীয়দের মধ্যে এক আসরে সর্বোচ্চ ১৬টি ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ড গড়েছেন।
নিউজিল্যান্ডের সেইফার্ট ও রবীন্দ্র
নিউজিল্যান্ডকে ফাইনালে তুলতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন ওপেনার টিম সেইফার্ট ও অলরাউন্ডার রাচিন রবীন্দ্র। আরব আমিরাতের বিপক্ষে বিশ্ব রেকর্ড ১৭৫ রানের উদ্বোধনী জুটিতে সেইফার্টের অবদান ছিল অপরাজিত ৮৯ রান।
আসরে মোট ২৭৪ রান করা এই কিউই ব্যাটার ফাইনালের আগে বেশ আত্মবিশ্বাসী। অন্যদিকে, রবীন্দ্র ব্যাট হাতে ১২৮ রানের পাশাপাশি বল হাতে শিকার করেছেন ১১ উইকেট। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তার ৪/২৭ বোলিং পারফরম্যান্স ছিল আসরের অন্যতম সেরা স্পেল।
পাকিস্তানের ফারহান এবং ইংল্যান্ডের উইল জ্যাকস
পাকিস্তান গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলেও ব্যাট হাতে ইতিহাস গড়েছেন সাহিবজাদা ফারহান। বিরাট কোহলির এক আসরে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ভেঙে ৩৮৩ রান করেছেন তিনি। টুর্নামেন্টে দুটি সেঞ্চুরি করা একমাত্র ক্রিকেটারও তিনি।
অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের উইল জ্যাকস ২২৬ রান ও ৯ উইকেট নিয়ে অলরাউন্ডার হিসেবে নিজের জাত চিনিয়েছেন। আসরে চারবার 'প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ' হয়ে শেন ওয়াটসনের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন এই ইংলিশ তারকা।
দক্ষিণ আফ্রিকার এইডেন মার্করাম-লুঙ্গি এনগিডি এবং যুক্তরাষ্ট্রের শ্যালকউইক
দক্ষিণ আফ্রিকাকে সেমিফাইনাল পর্যন্ত টেনে নিতে বড় ভূমিকা ছিল অধিনায়ক এইডেন মার্করামের। টুর্নামেন্টে ৫৩ গড়ে ২৮৬ রান করেছেন তিনি। বল হাতে প্রোটিয়াদের ভরসা ছিলেন লুঙ্গি এনগিডি। ৭ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি এখন তিনি।
এদিকে, সহযোগী দেশ হিসেবে আসরে বড় চমক দেখিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পেসার শ্যাডলি ভ্যান শ্যালকউইক। মাত্র ৪ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে নজর কেড়েছেন তিনি, যার মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে ৪টি করে উইকেট ছিল।



