দেড় বছরের বেশি সময় ধরে দেশের বাহিরে থাকা টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরা নিয়ে দীর্ঘদিনের ধোঁয়াশা অবশেষে কাটতে শুরু করেছে।
নিউ ইয়র্কে আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সাকিব নিজেই দেশে ফেরার ব্যাপারে নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। উপস্থাপকের এক প্রশ্নের জবাবে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে সাকিব বলেন, বাংলাদেশে যাব, ইনশাআল্লাহ দ্রুতই।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই সাকিব দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। মাগুরা-১ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে দেশে হত্যা মামলাসহ একাধিক আইনি জটিলতা রয়েছে। তবে তাকে ক্রিকেটে ফেরাতে ইতোমধ্যে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর জানিয়েছেন, সাকিবের মামলার ফাইলগুলো নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইতোমধ্যেই ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বিসিবির লিগ্যাল টিম এই আইনি প্রক্রিয়াগুলো সমন্বয় করছে যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে দেখা যায়।
সাকিবের দেশে ফেরা এবং ক্রিকেটে অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
তিনি বলেন, যেহেতু তাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে, সেটা দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে আমরাও চাই সাকিব-মাশরাফিরা আবার বাংলাদেশের ক্রিকেটে ফিরে আসুক। আমরা এই জায়গাটাকে অত্যন্ত নমনীয় ও সহনশীলভাবে প্রাধান্য দিতে চাই।
তবে প্রতিমন্ত্রী একটি শর্তও জুড়ে দিয়েছেন—সাকিবকে তার আইনজীবীর মাধ্যমে আইনগত লড়াই চালিয়ে নিজেকে নিরপরাধ প্রমাণ করতে হবে। আইনিভাবে বিপদমুক্ত হয়ে তিনি যদি মাঠে ফেরেন, তবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় তাকে স্বাগত জানাবে।
সবশেষ ২০২৪ সালের অক্টোবরে ভারত সফরে কানপুর টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে খেলেছিলেন সাকিব। এরপর পাকিস্তান ও ভারতের সাথে সিরিজ চললেও আইনি জটিলতা ও নিরাপত্তার অভাবে তাকে দলে দেখা যায়নি।


