চেলসি ফুটবল ক্লাব যখন তাদের ১২১ বছরের ইতিহাসে অন্যতম কঠিন সময় পার করছে, তখন স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে আশার প্রদীপ হয়ে জ্বলছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রো। ক্লাবের পারফরম্যান্স এবং অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলায় সমর্থকরা হতাশ হলেও, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন এই গ্রীষ্মকালীন সাইনিং।
নটিংহাম ফরেস্টের বিপক্ষে সবশেষ ম্যাচে দলের হার ছাপিয়ে আলোচনায় এখন পেদ্রোর সেই অবিশ্বাস্য ‘ওভারহেড কিক’ গোল।
গত সোমবার নটিংহামের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল চেলসির জন্য এক বড় লজ্জার হাতছানি। ক্লাবের দীর্ঘ ইতিহাসে কখনোই টানা ৬টি লিগ ম্যাচে পরাজয় এবং গোলহীন থাকার রেকর্ড নেই।
সেই চরম অসম্মানের রেকর্ড থেকে ক্লাবকে রক্ষা করেন পেদ্রো। জালের খুব কাছ থেকে বুক দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে করা তার সেই দর্শনীয় গোলটি চেলসির পরাজয়ের ব্যবধান কমালেও, এটি ছিল এই মৌসুমে তার ধারাবাহিকতারই একটি প্রতিফলন।
৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে চেলসিতে যোগ দেওয়া জোয়াও পেদ্রোর জন্য প্রথম মৌসুমটি মোটেও সহজ ছিল না। কোচ বদল, ক্লাবের মালিকানা নিয়ে বিতর্ক এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে পিএসজির কাছে ৮-২ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়ে ছিটকে পড়া—সব মিলিয়ে এক অস্থির সময় পার করছে ব্লুজরা।
যেখানে কোল পালমার বা ওয়েসলি ফোফানার মতো দামি তারকারা প্রত্যাশা মেটাতে ব্যর্থ হয়েছেন, সেখানে পেদ্রো একাই করেছেন ২০টি গোল।
দলের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ক্যালাম ম্যাকফারলেন পেদ্রোর খেলায় মুগ্ধ হয়ে বলেন, পেদ্রো একজন টপ ক্লাস ট্যালেন্ট। সে অনুশীলনে যা করে, ঠিক সেটাই বড় ম্যাচে করে দেখায়। ইনজুরি সংকটের কারণে লিভারপুলের বিপক্ষে তাকে উইঙ্গার হিসেবে নামাতে হলেও, মূল স্ট্রাইকার হিসেবেই সে সবচেয়ে কার্যকর।
এদিকে গত সেপ্টেম্বরে এক সাক্ষাৎকারে জোয়াও পেদ্রো জানিয়েছিলেন, ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলা তার আজীবনের স্বপ্ন। বর্তমান ছন্দ বজায় থাকলে আসন্ন বিশ্বকাপে সেলেসাওদের মূল একাদশে তার জায়গা পাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।


